প্রথম আলো অনুসারে, শ্রীযতপুরের জাজিরা উপজেলার পালেরচর ইউনিয়নের পদ্মা নদীর তীরবর্তী এলাকায় সোমবার ভোরে একটি ইলিশ রক্ষা অভিযান চলাকালে সংঘর্ষে জেলেদের আক্রমণ দেখা যায়। এই অভিযানটি শ্রীযতপুর‑১ (সদর ও জাজিরা) আসনের বিএনপি সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ নেতৃত্বে পরিচালিত হয়। তিনি মৎস্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে স্পিডবোটে উপস্থিত ছিলেন।
শ্রীযতপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেবের মতে, ৮ অক্টোবর থেকে মাতা ইলিশের শিকারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে এবং ২২ অক্টোবর পর্যন্ত তা বজায় থাকবে। তবে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জাজিরা, নড়িয়া ও ভেদরগঞ্জ এলাকায় অবৈধ শিকারের ঘটনা চলেই আছে।
অভিযানের সময়, পালেরচর ইউনিয়নের উত্তর প্রান্তের কলিকাল চরে পৌঁছানোর পর শতাধিক জেলে ধারালো অস্ত্র, লাঠি ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ওপর আক্রমণ চালায়। প্রথম আলো ও সমকালের তথ্য অনুযায়ী, এতে অন্তত পাঁচজন আইনশৃঙ্খলা সদস্য আহত হন; তবে ইনডিপেনডেন্ট টিভি প্রতিবেদনে আঘাতপ্রাপ্তের সংখ্যা দুই বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশ ও কোস্টগার্ডের তৎপরতা দ্বারা আক্রমণকারী জেলেদের বেশিরভাগকে ধরা পড়ে এবং মোট ৪১ জনকে গ্রেফতার করা হয়। সমকালের প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে যে, অভিযানে প্রায় দুই লাখ মিটার অবৈধ জাল এবং প্রায় ৩০ কেজি মা ইলিশ জব্দ করা হয়েছে, যদিও প্রথম আলোতে শুধুমাত্র জালের দৈর্ঘ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযান চলাকালে জেলেদের সঙ্গে সংঘর্ষের পর জাজিরা থানা ওসি সালেহ আহমেদ জানান, কিছু বিশৃঙ্খলা ঘটেছে এবং ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ উপস্থিত রয়েছে। সাঈদ আহমেদ জেলেদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে বলে সতর্ক করেন এবং ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
শ্রীযতপুরে মোট ৩৩,০০০ নিবন্ধিত জেল রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ২৮,৯২৯ জন ইলিশ শিকারের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেন। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার জন্য জেলেদেরকে ২৫ কেজি খাদ্যসহায়তা প্রদান করা হয়েছে। মৎস্য বিভাগ জানায়, গত দশ দিনে ২০টি অভিযান চালিয়ে ৭২ জন জেলেকে বিভিন্ন সময়ে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
এই ঘটনাটি অন্যান্য মিডিয়ার প্রতিবেদনেও উল্লেখিত হয়েছে; সমকালের প্রতিবেদনে একই ঘটনার সময়কে সকাল ১০টায় নির্ধারণ করা হয়েছে, আর ইনডিপেনডেন্ট টিভি ৯টায় ঘটনার উল্লেখ করেছে।






