যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় রাশিয়া ও ইউক্রেন ওলেশকি শহরে সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধবিরতি ২৯ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) থেকে কার্যকর হবে।

রুশ বাহিনীর প্রধান জেনারেল ভ্যালেরি গেরাসিমভের টেলিগ্রাম চ্যানেলে জানানো হয়েছে যে, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ভোর ৪টা থেকে রুশ সেনারা গুলি চালানো বন্ধ রাখবে, যা বাংলাদেশ সময়ে সকাল ৭টা। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম শুরু করার সুযোগ তৈরি হবে।

ওলেশকি, যা ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে রুশ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, সেখানে সম্প্রতি খাদ্যসংকট তীব্রতর হয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন। হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং বেসামরিক নাগরিকদের স্থানান্তরের প্রস্তুতির জন্য দুই দেশ সাময়িকভাবে সব ধরনের সামরিক তৎপরতা বন্ধ রাখতে সম্মত হয়েছে। নির্ধারিত নিরাপদ পথের মাধ্যমে বাসিন্দারা শহর ছেড়ে যেতে পারবেন।

ইউক্রেনের প্রধান আলোচক ডেভিড আরাখামিয়া টেলিগ্রামে জানিয়েছেন যে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর মানবিক সহায়তা কার্যক্রম শুরু হবে। মেলানিয়া ট্রাম্প ও পোপ লিওর দীর্ঘ আলোচনার পর এই সমঝোতা হয়েছে; মস্কোও এই সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়ে মেলানিয়া ট্রাম্পের ভূমিকার প্রশংসা করেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।

হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, ওলেশকি শহরে বর্তমানে প্রায় ১,৭০০ থেকে ২,০০০ জন বসবাস করছেন, যার বেশিরভাগই বয়স্ক। সেখানে প্রায় ৫০টি শিশু রয়েছে; যুদ্ধের আগে শহরের জনসংখ্যা প্রায় ২৪,০০০ ছিল। ২০২৩ সালে কাখোভকা বাঁধ ধ্বংস হওয়ার পর শহরের প্রায় ৯০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছিল।

মেলানিয়া ট্রাম্প উল্লেখ করেছেন যে, যুদ্ধবিরতির ফলে দুই দেশের বেসামরিক দলগুলো বাসিন্দাদের বাড়িতে গিয়ে তাদের প্রয়োজনীয়তা জানাবে এবং যারা শহর ছেড়ে যেতে চান তাদের রাশিয়া অথবা ইউক্রেনের যেকোনো গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য পরিবহন ও সমন্বিত সহায়তা প্রদান করা হবে। এই পুরো প্রক্রিয়ায় একটি মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধি দলগুলোর সঙ্গে থাকবে, যদিও হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে মিডিয়ার নাম উল্লেখ করা হয়নি।

এই তথ্য দেশ রূপান্তর অনুসারে প্রকাশিত হয়েছে।