সমকালে প্রকাশিত আলজাজিরার একটি বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইস ইনাসিও লুলা দা সিলভা গত রোববার ৮০ বছরে চতুর্থবারের মতো নির্বাচন জয়ী হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। তিনি ডানপন্থি সিনেটর ফ্লাভিও বোলসোনারোকে পরাজিত করেছেন, যিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারোর ছেলে। ফ্লাভিও বোলসোনারো পরাজয় স্বীকার করেছেন এবং বর্ধিত ভোট সময়কে ভোটার বিভ্রান্তির কারণ বলেছেন।

অভূতপূর্ব পুনর্নির্বাচন

গত ৪ অক্টোবর প্রথম চক্রে বোলসোনারো ৪৭.০৩% ভোট পেয়ে লুলার (৪৫.১৬%) চেয়ে ২২ লাখ ভোটের প্রান্তিকতা বজায় রেখেছিলেন। পরবর্তী তিন সপ্তাহে লুলা প্রথম চক্রে ভোট না দিয়ে থাকা ভোটারদের ফিরিয়ে আনার ও জীবনযাত্রার ব্যয় ও সামাজিক কর্মসূচির ভবিষ্যত নিয়ে উদ্বিগ্ন ভোটারদের মন জয় করার কৌশল নেন।

ভোট সময়সীমা বাড়ানো নিয়ে বিভ্রান্তি

শেষ মুহূর্তে উভয় পক্ষ ভোট গ্রহণের সময় বাড়ানোর দাবি জানান। লুলার শিবির অভিযোগ আনে যে, বেশ কিছু শহরে স্থানীয় কর্মকর্তারা ইচ্ছাকৃতভাবে গণপরিবহন কমিয়ে দিয়েছে, ফলে নিম্ন আয়ের ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যাওয়া কঠিন হয়েছিল।

নির্বাচন প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের অভিযোগ

সালভাদর শহরে বাস রুট কমানোর অভিযোগে আদালতের আদেশে শহরের পরিবহন সচিবকে গ্রেপ্তার করা হয়। লুলার শিবির এটিকে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ বলে মনে করেন। অন্যদিকে বোলসোনারো বিচারপতি জানিভের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে দিয়েছেন এবং জানিভ অতীতে লুলার ব্যক্তিগত আইনজীবী ছিলেন বলে জানিয়েছেন।

উচ্চ ভোটার উপস্থিতির ভূমিকা

জরিপ সংস্থা অ্যাটলাস ইন্টেলের প্রধান আন্দ্রে রোমান মনে করেন, প্রথম চক্রের তুলনায় ভোটার অনুপস্থিতি কমে যাওয়া লুলার জয়ে সাহায্য করেছে। লুলা শ্রমিক শ্রেণির ভোটারদের আকর্ষণের জন্য সপ্তাহান্তে বিনামূল্যে গণপরিবহন চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

লাতিন আমেরিকায় ট্রাম্পের উদ্দেশ্যে আঘাত

লাতিন আমেরিকায় ডানপন্থির জোয়ার ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টার মাঝপথে লুলার এই জয় এসেছে। বোলসোনারো পরিবার দীর্ঘদিন ট্রাম্পের সমর্থন পাচ্ছিল। রয়টার্স অনুযায়ী, ট্রাম্পের পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তারা লুলাকে দুর্বল করতে এবং বোলসোনারো পরিবারকে ক্ষমতায় ফেরানোর লক্ষ্যে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার পক্ষে জোরালো অবস্থান নেয়েছিলেন। লুলা তাঁর সমর্থকদের ‘গণতান্ত্রিক সেনাবাহিনী’ বলে অভিহিত করেছেন এবং বলেছেন, ‘আমার তীব্র সন্দেহ আছে যে রাশিয়া, চীন বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এই দেশের গণতান্ত্রিক সেনাবাহিনীর মতো এমন বিজয়ী কোনো বাহিনী আছে কিনা।’