প্রথম আলো অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের হাইকোর্ট লন্ডনের রিজেন্টস পার্কের কাছে দেড় কোটি পাউন্ড (প্রায় £15 মিলিয়ন) মূল্যের একটি ফ্ল্যাটের বিক্রি ও হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। নিষেধাজ্ঞা ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (এনসিএ) পরিচালিত অর্থ পাচার সন্দেহের তদন্তের অংশ।

ফ্ল্যাটের সঙ্গে বাংলাদেশের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামীর ভাই আনিসুজ্জামান চৌধুরি, যিনি "রনি" নামে পরিচিত, সংযুক্ত। এনসিএ জানায়, ফ্ল্যাটের প্রকৃত মালিকানা গোপন করতে জটিল কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে; ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কোম্পানির শেয়ার এক পাউন্ডে তৃতীয় পক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বিবাদিত তথ্য

প্রথম আলোতে ফ্ল্যাটের ক্রয় বছর ২০২৩ এবং ক্রয়মূল্য £১.২৪ মিলিয়ন উল্লেখ করা হয়েছে, যখন আজকের পত্রিকা ২০১৩ সালে £১২.৪ মিলিয়ন মূল্যে "রনি ৪২ লিমিটেড" নামের কোম্পানির মাধ্যমে ক্রয় করা হয়েছে বলে দাবি করে। একই সঙ্গে বার্তা২৪ মূল্যের উল্লেখ দেড় কোটি পাউন্ড হিসেবে রাখে, যা মূল সূত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

সাইফুজ্জামীর সম্পদের মূল্যায়নেও পার্থক্য দেখা যায়; প্রথম আলোতে ১৯৯২ থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত প্রায় $২৯.৫ মিলিয়ন সম্পদ উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে আজকের পত্রিকা $২৯৫ মিলিয়ন বলে উল্লেখ করেছে। তবে উভয়ই ২০২৫ সালের জুনে এনসিএ দ্বারা প্রায় £১৮৫ মিলিয়ন (১৮ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড) সম্পদ জব্দের আদেশের কথা জানায়।

আনিসুজ্জামীর আইনজীবীরা নিষেধাজ্ঞা আদেশের বিরোধিতা করেননি, তবে তিনি কোনো অবৈধ কাজের অস্বীকার এবং ভবিষ্যতে কোনো দেওয়ানি মামলায় জোরালো প্রতিরোধের কথা বলেছেন। বিচারপতি কারেন স্টেইন রায়ে (Judge Karen Stein Ray) ফ্ল্যাটটি অবৈধ অর্থে কেনা হয়েছে বলে যথেষ্ট যুক্তি দেখেছেন এবং নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন।

এনসিএ আরও জানায়, ফ্ল্যাটের ক্রয় অর্থের উৎস ব্যাখ্যা করতে ব্যর্থ হওয়ায় সম্পদটি অবৈধভাবে অর্জিত বলে ধারণা করা হয়েছে। শেয়ার হস্তান্তরের পেছনে ঋণ পুনঃঅর্থায়নের প্রচেষ্টা ছিল, তবে সিঙ্গাপুরভিত্তিক DBS ব্যাংকের ঋণ পরিশোধে ব্যর্থতার ফলে ব্যাংক এখন ফ্ল্যাটের দখল নেওয়ার আইনি প্রক্রিয়া চালাচ্ছে।

এই মামলাটি যুক্তরাজ্যে চলমান বৃহত্তর তদন্তের অংশ, যার মধ্যে সাইফুজ্জামীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সম্পদের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত।