বিবিসি বাংলার তথ্য অনুযায়ী, ১৬ অক্টোবর ২০২৬ বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ৮ টার দিকে নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর উপজেলায় একটি চায়ের দোকান থেকে বেরিয়ে শ্বশুরবাড়ির দিকে হাঁটতে থাকা সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির গুলিতে নিহত হয়। ঘটনাস্থল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে পুলিশ জানায় দুই অপরিচিত ব্যক্তি তাকে অনুসরণ করে কাছ থেকে গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়।

পুলিশের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে শির, গলা ও বুকে অন্তত পাঁচটি গুলি হয়েছে বলে জানানো হয়েছে; তবে মৃতের পরিবার গুলির সংখ্যা ছয়টি বলে দাবি করেছে এবং দুর্গাপুর থানা ওসির (ক.অ.) খন্দকার শাকের আহমেদ (BBC বাংলা) ও ডয়চে ভেলে বাংলা (SP তরিকুল ইসলাম) উভয়ই গুলির ছাঁচ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন।

আলিফ ফকির 'ডিটেকটিভ আর্টিকেল' নামে একটি ফেসবুক পেজ চালাতেন যেখানে তিনি স্থানীয় দুর্নীতি, চোরাচালান ও মাদক ব্যবসা ইত্যাদি বিষয়ের প্রতিবেদন প্রকাশ করতেন। তিনি বেসরকারি আইপিটিভি চ্যানেল রূপসী বাংলা (ধাক্কা ট্রিবিউন ও ডয়চে ভেলে বাংলা) এর নেত্রকোনা প্রতিনিধি হিসেবেও কাজ করতেন।

পূর্বে তিনি একই অঞ্চলে হুমকির কথা জানিয়ে পুলিশকে সতর্ক করছিলেন। দুর্গাপুর থানা ওসির (ক.অ.) শাকের আহমেদ (BBC বাংলা) জানান, তিনি একাধিকবার আলিফকে নিরাপত্তা সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। একই সময়ে ডয়চে ভেলে বাংলা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, SP তরিকুল ইসলাম কয়েক দিন আগে আলিফকে দেখা করে তার নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করেন এবং তাকে 'অভয়' প্রদান করেন।

আলিফের ওপর আগের আক্রমণও ঘটেছে। ১০ নভেম্বর ২০২৫-এ, সোমেশ্বরী নদী পার হয়ে ভাড়া মোটরসাইকেলে গিয়ে তিনি ও তার সহকর্মীকে চারজন ব্যক্তি দুইটি মোটরসাইকেলে আক্রমণ করে, হাত, পিঠ ও শরীরে আঘাত করেন (BBC বাংলা ও ডয়চে ভেলে বাংলা)। আলিফের মতে, সেই সময়ে তার সঙ্গে থাকা একজন উপ-পরিদর্শককে তার চেহারার সাদৃশ্যের কারণে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছিল।

ধাক্কা ট্রিবিউনের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আলিফের মৃত্যুর পেছনে সংগঠিত গ্যাংয়ের জড়িত থাকা সন্দেহ করা হচ্ছে এবং তদন্তে ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ, ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট ও ডিস্ট্রিক্ট স্পেশাল ব্রাঞ্চের দল কাজ করছে।

একজন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে; বর্তমানে তিনি জামিনে রয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা, সহ হত্যার মামলা, দায়ের রয়েছে (BBC বাংলা ও ধাক্কা ট্রিবিউন)।

মৃতের পরিবার জানিয়েছে, মৃতদেহের শেষকৃত্য সম্পন্ন হলে তারা মামলা দায়ের করবে। মৃতের স্ত্রী আনন্দিতা সংমা ও ভাই শহিদুল ইসলাম ফকির গুলির চিহ্ন দেখিয়ে শোক প্রকাশ করেছেন।

উল্লেখ্য, গুলির সংখ্যা, টেলিভিশন চ্যানেলের সুনির্দিষ্ট নাম এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার পদবী সম্পর্কে বিভিন্ন সূত্রে সামান্য পার্থক্য রয়েছে; এই বিষয়গুলো তদন্তের অংশ হিসেবে যাচাই করা হচ্ছে।

এই তথ্যগুলো BBC বাংলা, ধাক্কা ট্রিবিউন এবং ডয়চে ভেলে বাংলা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।