প্রথম আলো অনুসারে, আজ ইসরায়েলে পার্লামেন্ট (কনেসেট) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভোটার সংখ্যা প্রায় ৭৩ লাখ, এবং ১২০ আসনের জন্য ভোট হচ্ছে। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য ৬১ আসন প্রয়োজন।

ইসরায়েলের আইন অনুযায়ী ভোটাররা সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে নয়, বরং রাজনৈতিক দলকে ভোট দেন; প্রতিটি দলকে অন্তত ৩.২৫% ভোট পেতে হয় কনেসেটে প্রবেশের জন্য।

রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন লিকুদ শিবির এবং বিরোধী শিবিরের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যাচ্ছে। লিকুদ শিবিরে প্রধানত ডানপন্থী ও ধর্মীয় জাতীয়তাবাদী দলগুলো অন্তর্ভুক্ত, যার মধ্যে জিউইশ পাওয়ার, শাস ও ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম রয়েছে। বিরোধী শিবিরে ইয়াশার, টুগেদার, ইসরায়েল বেইতেনু ও ডেমোক্র্যাটসের দলগুলো অন্তর্ভুক্ত, যেখানে সাবেক সেনাপ্রধান গিদিয়ন সা'র, সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়ায়ার লাপিড সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী প্রার্থীদের মধ্যে উল্লেখিত।

রয়টার্সের জরিপ অনুযায়ী, লিকুদ ও ইয়াশার প্রত্যেকের ২২টি, টুগেদার ১৪টি, ডেমোক্র্যাটস ও জয়েন্ট লিস্ট ৯টি করে আসন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জিউইশ পাওয়ার, শাস ও ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম ৮টি, ইসরায়েল বেইতেনু ও রিলিজিয়াস জায়োনিজম ৭টি করে এবং রা’আম ৫টি আসন পেতে পারে। এই তথ্যের ভিত্তিতে, নেতানিয়াহু শিবিরের ৫৩ এবং বিরোধী শিবিরের ৫২টি করে আসন পাওয়ার সম্ভাবনা উল্লেখ করা হয়েছে, ফলে কোনো একক জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন সম্ভব নয়।

অধিকাংশ বিরোধী নেতা জোটের সম্ভাবনা নাকচ করেছেন; সমঝোতা না হলে পুনরায় নির্বাচন হতে পারে এবং ততদিন পর্যন্ত নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। তিনি এখন পর্যন্ত ছয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এবং নতুন সরকার গঠলে সপ্তম মেয়াদে অধিষ্ঠিত হতে পারেন।

এই নির্বাচনটি ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের আক্রমণের পর প্রথম নির্বাচন, যেখানে নিরাপত্তা, স্বাধীন তদন্তের দাবি এবং ধর্মীয় শিক্ষার্থীদের সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতি ইত্যাদি বিষয়গুলো ভোটারদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে। গাজার বাস্তুচ্যুত বাসিন্দা মোহাম্মদ ইলিয়ান আল-জাজিরা বলেছেন, “নেতানিয়াহুর হারলেও ইসরায়েলের নীতিতে বড় কোনো পরিবর্তন আসবে না; তবু আমি তার পরাজয় চাই।”

উল্লেখ্য, এই তথ্যগুলো প্রথম আলো থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।