প্রথম আলোর রিপোর্ট অনুযায়ী, খেলার সময় বা অন্য কোনো কারণে শরীরের যেকোনো অংশে ব্যথা পেলে এবং সেটি ফুলে গেলে হাঁটা-ফিরতে সমস্যা হয়। এ অবস্থায় কী করা উচিত—গরম সেঁক নাকি ঠান্ডা বরফের পট্টি? বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, আঘাতের মাত্রা বেশি হলে ব্যথার স্থানে দ্রুত বরফের পট্টি দিতে হবে। এটাকে 'ক্রায়ো থেরাপি' বা 'কোল্ড থেরাপি' বলা হয়। হাতের কাছে বরফ না থাকলে ঠান্ডা পানিতে কাপড় ভিজিয়ে আঘাতপ্রাপ্ত স্থানে লাগানো যেতে পারে।

এ ক্ষেত্রে খুব পরিচিত একটি পদ্ধতি হলো 'রাইস সিকোয়েন্স' (RICE sequence)। এর চারটি ধাপ হলো—রেস্ট (বিশ্রাম), আইস (বরফ), কম্প্রেশন (চাপ) এবং এলিভেশন (অবস্থার উন্নতি)। অর্থাৎ আঘাত বেশি হলে হাঁটা-চলাফেরা বন্ধ রেখে ব্যথার স্থানে বরফ বা ঠান্ডা পট্টি চেপে রাখা এবং পা বা হাত উঁচু রেখে অবস্থার উন্নতি আনতে হবে। যদিও দুই-তিন দিন পর এই পদ্ধতির ফলপ্রসূতা কমে যায়, তখন হালকা ব্যায়াম উপকারী হতে পারে।

ব্যায়াম বা খেলাধুলার পর দিনে পেশিতে ব্যথা থাকাকে 'বিলম্বিত পেশি পীড়া' (Delayed Onset Muscle Soreness) বলা হয়। এ ক্ষেত্রে ঠান্ডা এবং গরম—দুই ধরনের পদ্ধতিই প্রয়োগ করা যায়, তবে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এর ফলপ্রসূতা সম্পর্কে চিকিৎসকরা সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি।

দ্য নিউইয়র্ক টাইমস (৭ নভেম্বর ২০১৫) এ উদ্ধৃত একটি গবেষণাপত্র অনুযায়ী, ১০০ জন ব্যক্তির ওপর পরীক্ষা করা হয়েছিল। ব্যায়ামের সময় ব্যথা পাওয়া ৫০ জনকে ১৫ মিনিট পর ঠান্ডা বা গরম সেঁকের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল এবং বাকি ৫০ জনকে কোনো চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। গবেষকরা দেখেন, ঠান্ডা বা গরম দুই প্রক্রিয়ায়ই উপকার হয়েছে, তবে ব্যথা পাওয়ার সাথে সাথে বা ২৪ ঘণ্টা পর যাদের ঠান্ডা পট্টি দেওয়া হয়েছিল, তারা বেশি উপকার পেয়েছিল। গবেষণাপত্রটি 'দ্য জার্নাল অব স্ট্রেন্থ অ্যান্ড কনডিশনিং রিসার্চ'-এ প্রকাশিত হয়েছিল।

তবে মনে রাখা দরকার, ব্যথার পেছনে হাড়ে চিড় থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।