ঢাকা, ২৪ অক্টোবর: দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে গতানুগতিক মুখস্থবিদ্যা ও পরীক্ষাকেন্দ্রিক মানসিকতা থেকে মুক্ত করে শিক্ষার্থীদের আনন্দময়, জীবনমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা দিতে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের দুই শ্রেণিতে চারটি নতুন পাঠ্যবই যোগ করা হচ্ছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) এই বইগুলো প্রণয়ন করেছে বলে বাসস জানিয়েছে।
কौন বইগুলো যোগ হচ্ছে
চতুর্থ শ্রেণির জন্য 'খেলাধুলা' ও 'বাংলাদেশের সংস্কৃতি' तथा ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য 'লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস' ও 'আমার কারিগরি শিক্ষা'—এই চারটি বই শিক্ষাক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এনসিটিবি চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা বাসসকে বলেন, পাণ্ডুলিপি প্রণয়ন ও ভ্যালিডেশন কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ২৫ অক্টোবর জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটি (এনসিসি) সভায় চূড়ান্ত অনুমোদনের পর মুদ্রণের কাজ শুরু হবে।
উদ্দেশ্য ও প্রণয়ন প্রক্রিয়া
শিক্ষার্থীদের শারীরিক-মানসিক বিকাশ, নীতি-নৈতিকতা, সৃজনশীলতা ও বাস্তবমুখী কর্মদক্ষতা বাড়াতে এই বইগুলো প্রণয়ন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দীর্ঘদিনের রূপকল্প ও গবেষণার আলোকে এনসিটিবি এই উদ্যোগ নিচ্ছে বলে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন জানান। গত ১২ জুলাই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে চার মন্ত্রণালয়ের কর্মশালায় বইগুলোর রূপরেখা উপস্থাপন করার পর বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষাবিদদের সমন্বয়ে চূড়ান্ত পাণ্ডুলিপি তৈরি করা হয়েছে।
বইগুলোর বিষয়বস্তু
'খেলাধুলা' বইতে ১৪টি অধ্যায়ে ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, ব্যাডমিন্টন, সাঁতার, অ্যাথলেটিকস, দাবা সহ আত্মরক্ষার কৌশল (কারাতে, জুডো, তাইকোয়ান্দো) ও প্রাথমিক চিকিৎসা অন্তর্ভুক্ত। 'বাংলাদেশের সংস্কৃতি' ১১ অধ্যায়ে ভাষা, পোশাক, শিল্পকলা, খাদ্য সংস্কৃতি, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্য ও 'নতুন কুঁড়ি' প্রতিযোগিতার ইতিহাস বর্ণনা করেছে। 'লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস' ৬ অধ্যায়ে পরীক্ষা ভীতিমুক্ত আনন্দময় শিখন পদ্ধতি প্রবর্তন করছে। 'আমার কারিগরি শিক্ষা' ৮ অধ্যায়ে হাতে-কলমে শেখা, সমস্যা সমাধান, সবুজ প্রযুক্তি ও টেকসই জীবনযাপনের উপর জোর দিয়েছে।
মুদ্রণ ও প্রসার পরিকল্পনা
এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) প্রফেসর মোহাম্মদ আবু নাসের টুকু জানান, প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ কপি বই মুদ্রণ করা হবে এবং এনসিসি অনুমোদনের পর ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে মুদ্রণ কাজ শেষ করার লক্ষ্য রেখে কাজ চলছে। উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বলেন, খেলাধুলা ও সংস্কৃতি বিষয় ক्रमশः প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত, আর 'লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস' ও কারিগরি শিক্ষা ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত সম্প্রসারিত করা হবে।






