গাজীপুরের টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকায় অবস্থিত একটি আবাসিক মাদ্রাসায় ছয় বছর বয়সী মেয়ের যৌন নিপীড়নের অভিযোগের পর শিশুর বাবা শাহজালাল রুমি মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলছেন। দেশ রূপান্তর অনুসারে, রুমি জানান তিনি মাদ্রাসায় গিয়েছিলেন তার সন্তানের বিরুদ্ধে অভিযোগের ন্যায়সঙ্গত বিচার চাইতে, কোনো ধরনের মব সৃষ্টি করতে নয়।
রুমি মাদ্রাসায় ভাঙচুরের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সেখানে একটি ছোট কাচের গ্লাস অনিচ্ছাকৃতভাবে ভেঙে গিয়েছিল এবং তিনি এর ক্ষতিপূরণ দিতে প্রস্তুত। তিনি ১৭ লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগের ওপর মাদ্রাসার সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে সত্য যাচাইয়ের দাবি করেন।
রুমি উল্লেখ করেন, তিনি তার মেয়েকে দ্বীনি শিক্ষার জন্য মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়েছিলেন এবং ইসলাম বা প্রকৃত আলেমদের বিরুদ্ধে কথা বলছেন না; বরং ধর্মীয় পরিচয়কে ব্যবহার করে অপরাধ করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কথা বলছেন। তিনি জানান, তিন দিন আগে তিনি মাদ্রাসার অধ্যক্ষকে অভিযোগ জানিয়েছিলেন, কিন্তু অধ্যক্ষ জানেন না বলে দাবি করে সাক্ষাৎ এড়িয়ে গেছেন।
টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি আরিফুর রহমানের মতে, শিশুটির উপর যৌন নিপীড়নের অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের হয়েছে এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ভাঙচুর ও শিক্ষকদের মারধরের পৃথক অভিযোগ দায়ের করেছে। উভয় পক্ষের হুমকির অভিযোগের ওপর পুলিশ তদন্ত করবে।
সংবাদ সম্মেলনে রুমি আইন মেনে শাস্তি স্বীকার করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন এবং মামলায় লড়াই চালিয়ে যাবার কথা বলেন। তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত বোধ করছেন এবং যথাযথ ঘুম পাচ্ছেন না। রুমি জনগণের সহযোগিতা চেয়ে বলেন, যদি একই ঘটনা তাদের সন্তানকে হয় তবে তারা কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতেন।
অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনেও রুমির বক্তব্যের মূল বিষয় একই রকম, তবে তারিখ ও সময়ে পার্থক্য দেখা যায়। বাংলা ট্রিবিউন ও সমকাল রুমির বক্তব্যকে একইভাবে উপস্থাপন করেছে, যেখানে আজকের পত্রিকা উল্লেখ করেছে যে রুমি শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ৩টায় মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলেছেন; অন্যদিকে দেশ রূপান্তর ও অন্যান্য সূত্রে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাত ৩টায় সাক্ষাৎ হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
এই ঘটনায় জড়িত সকল পক্ষের বিবৃতি ও প্রমাণের যথাযথ তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে, যা আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। (তথ্য: দেশ রূপান্তর)






