আজকের পত্রিকা অনুসারে, কক্সবাজারের উখিয়া ইনানীর পাটুয়ারটেকের টুপটুপ রেস্ট্রো অ্যান্ড রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ১০ জন পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃত ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষা চলছে এবং শনাক্ত না হওয়া পর্যন্ত মরদেহগুলো কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হবে।
অগ্নিকাণ্ডের পর তদন্তকারী ইনানী থানা উপপরিদর্শক (এসআই) রিমন ঘোষ রিসোর্টের সহকারী ব্যবস্থাপক জাহিদুল ইসলাম (যাকে "সুমন" নামেও উল্লেখ করা হয়েছে) এর সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন আদালতে করেছেন। রিমন ঘোষ জানান, রিমান্ড অনুমোদিত হলে সুমনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তিনি ডিএনএ নমুনা নিয়ে ঢাকা সিআইডি সদর দপ্তরে আছেন।
প্রধান সূত্রে বলা হয়েছে, সুমনকে শনিবার রাতেই গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরে মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে প্রথা আলো (প্রথম আলো) অনুসারে, সহকারী ব্যবস্থাপকের নাম জাহিদ হোসেন এবং রিমান্ডের আবেদন আদালতে করা হলেও তদন্ত কর্মকর্তা অনুপস্থিত থাকায় শোনানি হয়নি। উভয় সূত্রই উল্লেখ করেছে যে রিমান্ড অনুমোদিত হলে তাকে জেলখানায় পাঠানো হবে।
অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের ছয়জন অন্তর্ভুক্ত। মৃত ব্যক্তিদের তালিকায় ঢাকা দক্ষিণ বনশ্রী এলাকার আশিকুর রহমানের স্ত্রী ইসরাত জাহান মালিহা (২৯), তার বোন লাইলা জাহান নাবিলা (২৫), খালাতো বোন মেলিতা মেহজাবিন (২৩), বরগুনার ফারিহা কবির (৩৩), তার ছেলে ফাইজান নূর (৭) এবং ভাই নাফিস তেহামি জেরিফ (২৪) অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া যশোরের মনিরামপুর হাসপাতাল মোড়ের নিকটবর্তী মোহনপুর এলাকার মতিয়ার রহমানের পরিবারে নাহিদুর রহমান তুহিন (৪১), তার স্ত্রী আফসানা তানজি (৩৬) এবং দুই মেয়ে রুজাইনা ইনায়া (৭) ও সুনাইনা ইহানা (৩) নিহত হয়েছে। ঢাকা জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি দেওয়ান ফয়সালের স্ত্রী নাসরিন আক্তার মুক্তার নামও মৃত তালিকায় আছে।
দুইজন বেঁচে গেছেন: মেহেরুননেসা মিলা (৩০) এবং তার স্বামী মাসুদ মিয়া, যারা লাফিয়ে পড়ে প্রাণ বাঁচিয়ে নেয়; তবে দুজনই গুরুতর আঘাত পেয়েছেন।
ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের কাজ কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান এবং সিআইডি কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে চলছে; রিপোর্টে বলা হয়েছে যে ফলাফল পেতে তিন থেকে চার সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। জেলা প্রশাসন স্বজনদের আবেদন অনুযায়ী আপাতত মরদেহের ময়নাতদন্ত না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আইনি দিক ও অভিযুক্তদের তালিকা
উখিয়া থানার উপপরিদর্শক আশীষ সূত্রধর শনিবার রাতে মামলায় বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মূল সূত্রে মোট ২৩ জনকে আসামি করা হয়েছে, যার মধ্যে রিসোর্টের মালিক তানভীর আহমদ এবং তার ব্যবসায়িক অংশীদার নিয়াজ মোর্শেদ অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে প্রথা আলোতে রিসোর্টের মালিককে মো. তানভীর সুলতান মিয়া (৩৮) এবং প্রধান ব্যবস্থাপক সাঈদ আহমদ (৩২), ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সাইদ (৩০) সহ চারজনকে নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করা হয়েছে; অতিরিক্ত ১৯ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
উভয় সূত্রই উল্লেখ করেছে যে এখনও একজন নিখোঁজ আছেন এবং স্বজনদের কাছ থেকে অতিরিক্ত তথ্য সংগ্রহের জন্য পুনরায় তল্লাশি চালানো হয়েছে।
এই ঘটনায় কক্সবাজারের অন্যান্য অপরাধমূলক ঘটনা, যেমন ঈদগাঁও-ইদগড়-বাইশারী সড়কের ডাকাতি এবং ইয়াবা শিকারের ওপর পুলিশ অভিযান, একই সময়ে রিপোর্ট করা হয়েছে, তবে সেগুলি এই অগ্নিকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত নয়।






