কক্সবাজারের ঈদগাঁও-ঈদগড়-বাইশারী সড়কের হিমছড়ি ঢাল এলাকায় সোমবারের সকাল থেকে দুপরে পর্যন্ত হাতিয়ারবন্দ ডাকাতরা ৫০ থেকে ৬০টি যানবাহন আটক করে ১০০-ও বেশি যাত্রীকে লুটপাট করেছে। ঘটনাটি দুটি ধাপে ঘটেছে বলে ঢাকা ট্রিবিউন জানিয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে সকাল ৮টা এবং দুপরে ১২টা頃ে শুরু হয়ে প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে ডাকাতি চলেছে। ১০-১২ জন হাতিয়ারবন্দ ও মুখোশপোশ ডাকাতরা সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল আটক করে যাত্রীদের বন্দুক দেখিয়ে আতঙ্কিত করল এবং তাদের নিকটবর্তী জঙ্গলে টেনে নিয়ে পিটুন ও লুটপাট করল। শিকাররা অভিযোগ করল, ঘটনার সময় সড়কে কোনো পুলিশ পেট্রোলিং ছিল না।

ঢাকা ট্রিবিউন অনুযায়ী, ঈদগড় শাখার একটি এনজিওর ম্যানেজার মোঃ রবিউল ইসলাম দুপরে ১২টার দিকে মোটরসাইকেলে ঈদগাঁও বাজার থেকে ঈদগড় যাচ্ছিলেন। হিমছড়ি ঢালে ডাকাতরা তাদের আটক করে জঙ্গলে নিয়ে গেল, পিটুন এবং ১ লাখ ২০ হাজার টাকা, দুটি মোবাইল ফোন ও কাগজপত্র লুটে নিল। রবিউল বলেন, ডাকাতরা প্রায় দুই ঘণ্টা ৫০-৬০টি অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের ১০০-ও বেশি যাত্রীকে বন্দুক দেখিয়ে আটক রেখেছিল।

একই রিপোর্টে একজন নিজি প্রতিষ্ঠানের একাউন্টেন্ট আব্দুল হাকিমের অভিজ্ঞতা উল্লেখ করা আছে। তিনি দুজন অন্যের সাথে অটোরিকশায় যাচ্ছিলেন যখন ডাকাতরা তাদের আটক করে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও একটি ব্যাংক চেক বই লুটে নিল। হাকিম দাবি করলেন, এই সড়কে ডাকাতি এবং আবারপ্তানির জন্য অপহরণ নিয়মিত ঘটে, কিন্তু যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

প্রথম আলো ইংরেজি সংস্করণও এই ঘটনার যাচাই করেছে। তাদের প্রতিবেদনে ঈদগাঁও থানার অফিসার-ইন-চার্জ এটিএম সিফাতুল মজদার (ঢাকা ট্রিবিউনে 'মজদার' বানান) বলেছেন, স্থানীয় অপরাধীরা রোড ব্লকেড করে যানবাহন লুটে জঙ্গলে আশ্রয় নিল। একাধিক পুলিশ দল অভিযান চালাচ্ছে, কিন্তু সোমবারের সন্ধ্যা পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। ওসি বলেছেন, ১৭ কিলোমিটার লম্বা এই সড়কের জঙ্গল এলাকায় পেট্রোলিং তীব্র করা হয়েছে। তবে তিনি লুটপাট করা যানবাহনের সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত করতে পারলেন না।

প্রথম আলোর রিপোর্টে আরও জানানো হয়েছে, ডাকাতির হামলায় দুজন মোটরসাইকেল চালক আহত हुएেছেন। ঢাকা ট্রিবিউনে এই তথ্যটি উল্লেখ নেই। দুটি আউটলেটের রিপোর্টে রবিউল ইসলামের কর্মস্থল সম্পর্কে পার্থক্য রয়েছে—ঢাকা ট্রিবিউন তাকে এনজিওর ম্যানেজার বলেছে, প্রথম আলো 'নিজি প্রতিষ্ঠান' উল্লেখ করেছে।

পুলিশ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে এবং সড়কে নিরাপত্তা বাড়ানোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।