শারদীয় দুর্গা পূজার আনুষ্ঠানিকতা আজ মহা ষষ্ঠী থেকে শুরু হয়েছে। দেশ রূপান্তর অনুসারে, আজ দেবীর জাগরণ (বোধন), আমন্ত্রণ ও অধিবাস সম্পন্ন হবে; সন্ধ্যায় বেলগাছের নিচে বোধন ভাঙিয়ে পূজার্চনায় দেবীকে বরণ করা হবে।

উদযাপনের ধারাবাহিকতা

মহালয়ার (১০ অক্টোবর) অনুষ্ঠানের পর থেকে শারদীয় দুর্গা পূজা শুরু হয়েছে। পঞ্জিকানুসারে, আজ ষষ্ঠী পূজা শেষে মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। মহাসপ্তমী (২৯ ও ৩০ আশি‑ন, অর্থাৎ ১৭‑১৮ অক্টোবর) দুই দিনে অনুষ্ঠিত হবে; এতে ‘নবপত্রিকা’ রীতি অনুসারে নয়টি উদ্ভিদকে স্নান করিয়ে দেবীর বিভিন্ন রূপের প্রতীক হিসেবে পূজা করা হবে। মহাসপ্তমীর পর ১ কার্তিক (১৯ অক্টোবর) মহা ষটমী ও কুমারী পূজা, ২ কার্তিক (২০ অক্টোবর) মহানবমী পূজা, এবং ৩ কার্তিক (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে ছয় দিনের আনুষ্ঠানিকতা সমাপ্ত হবে।

ইনকিলাবের রিপোর্টে একই ধারাবাহিকতা উল্লেখ করা হয়েছে এবং অতিরিক্তভাবে বলা হয়েছে যে, মহা ষটমীর সন্ধ্যাপূজা বিশেষ আকর্ষণীয় এবং মহানবমীর শেষে ভোগ নিবেদন করা হবে।

ধর্মীয় বিশ্বাস

ধার্মিক পঞ্জিকানুসারে, দেবী দুর্গা ঘোড়ায় চড়ে স্বর্গ থেকে মর্ত্যে আগমন করেন; পূজা শেষে নৌকায় চড়ে স্বর্গে ফিরে যান। এই বিশ্বাস উভয় সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

নিরাপত্তা ও প্রস্তুতি

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট ৩৩,৮৫১টি স্থায়ী ও অস্থায়ী পূজামণ্ডপে দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে, যা পূর্বের তুলনায় প্রায় দেড় হাজার বেশি। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, আনসার, বিজিবি, র‌্যাব, কোস্টগার্ড, এসআরবি ও স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী প্রতিটি মণ্ডপে মোতায়েন করা হবে। এছাড়া, ঢাকা শ্বরী জাতীয় মন্দিরে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে।

এসআরবি মহাপরিচালক আহসান হাবীব পলাশের মতে, সারা দেশে আড়াই হাজার এসআরবি সদস্য নিরাপত্তা রক্ষায় মোতায়েন করা হয়েছে এবং কোনো নাশকতার হুমকি নেই। ইনকিলাবের প্রতিবেদনে একই সংখ্যার উল্লেখ আছে, তবে নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে র‌্যাবের উপস্থিতি উল্লেখ করা হয়েছে।

সরকারি ছুটি

সরকারের নির্বাহী আদেশে দুর্গা পূজার ছুটি তিন দিন পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে; শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে যুক্ত হয়ে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত মোট পাঁচ দিনের ছুটি হবে। এই তথ্য দেশ রূপান্তর থেকে এসেছে।

বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী রমনা কালীমন্দির পরিদর্শন করে জানান, দেশের সীমান্তের আট কিলোমিটারের মধ্যে সব পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে এবং সীমান্ত এলাকায় ১,৮০০টি পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা থাকবে।

উল্লেখ্য, পূজা সংক্রান্ত নিরাপত্তা পরামর্শে পুলিশ গুজব থেকে সতর্ক থাকা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা, বিসর্জনের রুট অনুসরণ এবং জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছে।