ইত্তেফাকের রিপোর্ট অনুসারে, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্পে জড়িত কেডিএ (খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ) প্রধান প্রকৌশলী কাজী মো. সাবিরুল আলমসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছে।

দুদকের উপপরিচালক মামুনুর রশীদ চৌধুরী শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, এই অনুমোদন নিশ্চিত করেন এবং উল্লেখ করেন যে এখনো মামলা দায়ের করা হয়নি, তবে শিগগিরই দায়ের করা হবে। তিনি আরও জানান যে, অনুমোদনটি গত সোমবার কমিশন থেকে প্রাপ্ত হয়েছে।

অভিযুক্তদের তালিকা

ইত্তেফাকের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তদের মধ্যে প্রধান প্রকৌশলী কাজী মো. সাবিরুল আলমের পাশাপাশি আতাউর রহমান খান লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও লিড পার্টনার মো. আতাউর রহমান, ঠিকাদারি সংস্থা মাহাবুব ব্রাদার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রকল্প পার্টনার শেখ মাহাবুব রহমান, কেডিএর সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শামীম জেহাদ, নির্বাহী প্রকৌশলী (প্রকল্প) মো. আরমান হোসেন, নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মুনতাসির মামুন, সহকারী প্রকৌশলী বাসুদেব কুমার বিশ্বাস এবং উপ-সহকারী প্রকৌশলী শরীফ ওয়াহিদুজ্জামান অন্তর্ভুক্ত।

দুদকের অভিযোগে বলা হয়েছে যে, স্থানীয় ঠিকাদার মাহাবুব ব্রাদার্স লিমিটেডকে প্রকল্পের কাজের আদেশ দেওয়া হয়েছিল, তবে পরিকল্পনা অনুযায়ী সড়ক নির্মাণ না করে সরকারের কয়েক কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।

প্রকল্পের বিলম্ব ও খরচ বৃদ্ধি

খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্পটি ২০১৩ সালে শুরু হয় এবং ২০১৫ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে ১৩ বছরের দীর্ঘ বিলম্বের পরও কাজ সম্পন্ন হয়নি। প্রকল্পের মূল বাজেট ৯৭ কোটি টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২৮০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্প্রতি একনেকের সভায় এই দীর্ঘ বিলম্বের কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

দুদকের অনুমোদন এবং মামলার দায়েরের অপেক্ষায় থাকা অবস্থায়, অন্যান্য সংবাদমাধ্যম যেমন বাংলা ট্রিবিউন এবং বাসসও একই তথ্য প্রকাশ করেছে, যা ইত্তেফাকের প্রতিবেদনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

এই তথ্য ইত্তেফাকের অনুসারে।