ইত্তেফাকের মতে, গাজীপুর থেকে ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত প্রায় ২০.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের অবকাঠামো সরিয়ে ছয় লেনের সাধারণ মহাসড়ক করার সিদ্ধান্ত সরকার গ্রহণ করেছে। এই সিদ্ধান্ত ১৮ অক্টোবরের মন্ত্রিসভার বৈঠকে নেওয়া হয় এবং ১৯ অক্টোবর সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

বিআরটি করিডরের স্টেশন ও লেন বিভাজক অপসারণের পাশাপাশি, প্রকল্পের আওতায় নির্মিত দুটি দুই‑লেনের ওভারপাসকে চার‑লেনের রূপে উন্নীত করা হবে। ঢাকা বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট পিএলসি বন্ধ করে তার কার্যক্রম সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) তত্ত্বাবধানে নেওয়া হবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি ১৮ অক্টোবরের বৈঠকের শেষে সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন সিদ্ধান্তের কথা জানালেও বিআরটি প্রকল্পের সিদ্ধান্তের উল্লেখ করেননি।

প্রকল্পের ইতিহাস ও ব্যয়

বিআরটি প্রকল্পটি ২০১২ সালের নভেম্বর মাসে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদিত হয়। প্রাথমিক অনুমানিত ব্যয় ২,০৩৯.৮৪ কোটি টাকা ছিল। ২০১৬ সালের মধ্যে কাজ শেষ করে চালু করার পরিকল্পনা থাকলেও ভূমি অধিগ্রহণ, নকশা পরিবর্তন এবং সেবা সংস্থার লাইন স্থানান্তরের জটিলতার কারণে কাজ বিলম্বিত হয়। ২০১৮ সালে মাঠপর্যায়ে বড় পরিসরে নির্মাণ শুরু হয়, এবং ব্যয় এক পর্যায়ে ৪,২৬৮.৩২ কোটি টাকায় বৃদ্ধি পায়। ২০২৫ সালে ব্যয় ৬,৫৯৭ কোটি টাকার বেশি করে বাড়িয়ে ডিসেম্বর ২০২৯ পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়, তবে একনেক ২৭ জুলাই ২০২৫-এ তা অনুমোদন করেনি।

বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রকল্পের মোট ব্যয় প্রায় সাড়ে ৬,৫০০ কোটি টাকা, যার মধ্যে ইতিমধ্যে ২,৮১১ কোটি টাকা খরচ হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই সংখ্যা ইত্তেফাকের তথ্যের সঙ্গে পার্থক্যপূর্ণ, তাই সঠিক পরিমাণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

প্রকল্পের দীর্ঘায়ু ও নির্মাণ কাজের ফলে গাজীপুর, টঙ্গী ও বিমানবন্দর এলাকার সড়কে দীর্ঘদিন যানজট ও জনভোগান্তি সৃষ্টি হয়। দ্রুত গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য সত্ত্বেও প্রকল্পটি সম্পূর্ণভাবে চালু করা সম্ভব হয়নি, ফলে অবশেষে সরকার অবকাঠামো সরিয়ে সাধারণ মহাসড়ক করার সিদ্ধান্ত নেয়।

এই সিদ্ধান্তের বাস্তবায়নে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগকে ১৫ দিনের মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন পাঠাতে বলা হয়েছে; সিদ্ধান্তের সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত প্রতি মাসের ৩ তারিখে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।

উল্লেখ্য, এই তথ্য ইত্তেফাকের পাশাপাশি ঢাকা টাইমস ও বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিবেদনের সঙ্গে সমন্বিতভাবে উপস্থাপিত হয়েছে।