জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সাবেক আইনমন্ত্রী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আনিসুল হকসহ চারজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলার চার্জশিট গ্রহণ করেছেন আদালত। বাসসের খবরে বলা হয়, রোববার ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবীর এ চার্জশিট গ্রহণ করেন।

চার্জশিটভুক্ত অন্য তিন আসামি হলেন আনিসুল হকের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী জেবুন্নেছা বেগম হক কলি, ভাগ্নে শেখ মো. ইফতেখারুল ইসলাম ও কাজিন পরিচয়ধারী মোহাম্মদ ইকবাল। বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এদিন শুনানির সময় কারাগারে থাকা আনিসুল হককে আদালতে হাজির করা হয় এবং মামলাটি এখন বিচারের জন্য বদলি প্রক্রিয়ায় রয়েছে। দুদকের প্রসিকিউশনের পক্ষে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে (বাসসের তথ্য অনুযায়ী পিপি মীর আহমেদ সালাম এবং বাংলা ট্রিবিউনের তথ্য অনুযায়ী পিপি মীর আহমেদ আলী সালাম)।

তদন্ত প্রতিবেদন ও চার্জশিটের বরাতে বাসস জানায়, আনিসুল হকের স্বনামে ও বেনামে ১৮০ কোটি ৮৫ লাখ ৭৩ হাজার ৮৮১ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ পাওয়া গেছে। পারিবারিক ব্যয় বাদে তার গ্রহণযোগ্য নিট আয় পাওয়া যায় ৮ কোটি ৬১ লাখ ৪০ হাজার ৯৪০ টাকা। ফলে ১৭২ কোটি ২৪ লাখ ৩২ হাজার ৯৪১ টাকার সম্পদ জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, আনিসুল হকের নিজের নামে ৯৬ কোটি ৮০ লাখ ৬৬ হাজার ৮৮০ টাকা এবং সংশ্লিষ্ট তিন ব্যক্তির নামে আরও ৮৪ কোটি ৫ লাখ ৭ হাজার ১ টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। এর মধ্যে জেবুন্নেছা বেগমের নামে সিটিজেনস ব্যাংকের ১০ কোটি টাকার শেয়ার ও ১৩ কোটি টাকার এফডিআরসহ মোট ২৩ কোটি ৩২ লাখ ২ হাজার ৩২১ টাকা, শেখ মো. ইফতেখারুল ইসলামের নামে ২০ কোটি টাকার শেয়ারসহ ২০ কোটি ৭১ লাখ ৮১ হাজার ৪৪৪ টাকা এবং মোহাম্মদ ইকবালের নামে ৪০ কোটি টাকার বেশি শেয়ারসহ ৪০ কোটি ১ লাখ ২৩ হাজার ২৩৬ টাকার সম্পদ পাওয়া গেছে।

এছাড়া আনিসুল হক ও সংশ্লিষ্টদের ২৩টি ব্যাংক হিসাবে মোট ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৯৯ হাজার ৪৫২ টাকা জমা এবং ৩৬১ কোটি ৭৩ লাখ ২৭ হাজার ১২৯ টাকা উত্তোলনের মাধ্যমে ৭৩৭ কোটি ২৪ লাখ ২৬ হাজার ৫৮১ টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে। ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি মামলাটি দায়েরের পর চলতি বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর আদালতে চার্জশিট জমা দেন দুদকের উপপরিচালক ও তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম।