BBC বাংলা জানাচ্ছে যে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব জাপানের চারটি কোম্পানির সমন্বয়ে গঠিত একটি কনসোর্টিয়ামকে দেওয়ার চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানিয়েছে যে সরকার অনুমোদনের পর এই মাসের মধ্যেই চুক্তি স্বাক্ষর হবে।

চুক্তির শর্তে বলা হয়েছে যে তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলো কেবলমাত্র সেই টার্মিনাল থেকেই পরিচালিত হবে, আর প্রথম ও দ্বিতীয় টার্মিনাল থেকে হজ, চার্টার্ড ও বাজেট ফ্লাইট এবং অভ্যন্তরীণ রুট চলবে। এছাড়া ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে আগামী ১৫ বছরের মধ্যে অন্য কোনো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণ করা যাবে না, যদিও নির্মাণ করা যাবে কিন্তু ফ্লাইট পরিচালনা নিষিদ্ধ।

লাভ ভাগাভাগি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে; প্রাথমিক প্রস্তাব ছিল ১৫% লাভ বাংলাদেশকে দেওয়া, তবে আলোচনার পর তা বাড়ানো হয়েছে। একটি নাম প্রকাশ না করা সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য জানিয়েছেন যে চূড়ান্ত শর্তে ২৭% লাভ ভাগ দেওয়া হবে।

তৃতীয় টার্মিনালের বার্ষিক যাত্রী পরিচালন ক্ষমতা ১.২ কোটি, যেখানে প্রথম ও দ্বিতীয় টার্মিনালের ক্ষমতা ৮০ লাখ। চুক্তি অনুযায়ী তৃতীয় টার্মিনাল ১৬ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করবে বলে বেবিচক জানিয়েছে।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা বলেন যে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলো প্রথম ও দ্বিতীয় টার্মিনাল থেকে বন্ধ করা উচিত নয় এবং লাভ ভাগাভাগি সঠিকভাবে নিশ্চিত না হলে তৃতীয় টার্মিনাল ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ও সরকার জানিয়েছে যে ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে নতুন বিমানবন্দরের কোনো পরিকল্পনা নেই।

উপরোক্ত তথ্য অনুযায়ী, চুক্তির চূড়ান্ত শর্ত ও লাভ ভাগাভাগি নিয়ে এখনও কিছু প্রশ্ন রয়ে গেছে।