সমকাল অনুসারে, চট্টগ্রামে প্রথম স্ত্রীর তথ্য গোপন করে দ্বিতীয় বিয়ের বিরোধের ফলে ২৮ বছর বয়সী শ্রমিক জান্নাতুল ফেরদৌসকে সাম্পান নৌকায় গুলি করে শিকলবাহা খালে ফেলে দেওয়া হয়। পরে শিকলবাহা খাল থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় তার দেহ উদ্ধার করা হয়। পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) জানিয়েছে, তার দ্বিতীয় স্বামী রাজা মিয়া (যাকে রাজু নামেও পরিচিত) এবং দুই সহযোগী—মো. মুসলিম উদ্দিন (৩৯) ও শুজুর আহম্মদ (২৪)—কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আলোকিত বাংলাদেশ অনুসারে, জান্নাতুল ফেরদৌস চট্টগ্রামের একটি জুতা কারখানায় কাজ করতেন এবং সাত বছর বয়সী মেয়ের মা ছিলেন। তিনি এবং রাজা মিয়া চট্টগ্ররের চান্দগাঁও বাহির সিগন্যাল এলাকার একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন; গত বছর ৪ সেপ্টেম্বর তারা বিবাহ বন্ধন গেঁথে। বিবাহের পর রাজা মিয়া নিজেকে অবিবাহিত বলে পরিচয় দিলেও, প্রথম বিয়ের তথ্য জান্নাতুল জানার পর তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। ২৮ জুলাই সন্ধ্যায় রাজা মিয়া এবং তার সহচররা জান্নাতুলকে কর্ণফুলী নদীর অপর পাড়ে নিয়ে গিয়ে সাম্পান নৌকায় গুলি করে, গলা রশি দিয়ে হত্যা করে এবং দেহটি শিকলবাহা খালের কালারপোল এলাকায় ফেলে দেয়। দেহটি ২ আগস্ট শিকলবাহা বিদ্যুৎকেন্দ্রের লঞ্চঘাট সংলগ্ন খাল থেকে নৌপুলিশের মাধ্যমে উদ্ধার করা হয়।

পিবিআই ৬ অক্টোবর থেকে মামলাটির তদন্ত গ্রহণ করে, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মুসলিম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে এবং তার তথ্যের ভিত্তিতে শুজুর আহম্মদকে গ্রেপ্তার করে। মুসলিম উদ্দিন ১৪ অক্টোবর আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধি ধারা ১৬৪ অনুযায়ী স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জান্নাতুলের মা কর্ণফুলী থানায় তার হত্যার মামলা দায়ের করেছেন।