সৌদি আরবে সম্প্রতি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা দুই বাংলাদেশির পরিবার সরকারকে মরদেহ দেশে ফেরত চেয়ে আবেদন জানিয়েছে। টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের এক মা ও তার দুই সন্তান, পাশাপাশি আরেক পরিবার, মৃতদের লাশ স্বজনের কাছে পৌঁছাতে চান।

বাংলাদেশ সরকারের প্রতিক্রিয়া

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়ে মৃত্যুদণ্ডের বিস্তারিত তথ্য ও রায়ের অনুলিপি চেয়েছে। চিঠির একটি অনুলিপি ১৮ অক্টোবর ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ বিন জাফরকে হস্তান্তর করা হয়। মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলছেন, তারা দ্রুত উত্তর পাওয়ার আশা করছেন এবং মরদেহ দ্রুত দেশে ফেরত আনার প্রচেষ্টা চালাবে।

সৌদি আরবের তথ্য প্রদান না করা

সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) ১৪ অক্টোবর জানিয়েছে যে দেশটি দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে, তবে মৃত্যুদণ্ডের আগে কোনো তথ্য বাংলাদেশি দূতাবাসকে জানানো হয়নি। ভিয়েনা প্রোটোকল অনুযায়ী, একটি দেশের নাগরিক অন্য দেশে আটক হলে দ্রুততম সময়ে তার দেশের সরকারকে অবহিত করতে হয়; এই প্রোটোকল লঙ্ঘনের প্রশ্ন উঠে।

মানবাধিকার সংস্থার মন্তব্য

ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক ও অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান উল্লেখ করেন, অতীতে সৌদি আরবে বিদেশি নাগরিকের মরদেহ ফেরত না দেওয়ার নজির রয়েছে। তিনি বলেন, বিতর্কিত বা মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগযুক্ত মামলায় সৌদি সরকার লাশ ফেরত দিতে দ্বিধা করে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ২০২৫ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৪ জানুয়ারি থেকে ২০২৫ জুন পর্যন্ত সৌদি আরবে কমপক্ষে ৮১৬ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে, যার মধ্যে ২০২৪ সালে রেকর্ড ৩৪৫টি। এই সময়ে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মৃত্যুদণ্ড মাদকসংক্রান্ত অপরাধের জন্য দেওয়া হয়েছে, এবং বিদেশি নাগরিকদের মৃত্যুদণ্ডের ক্ষেত্রে প্রায় ৭৫% মাদকসংক্রান্ত।

বিবিসি বাংলা অনুসারে, সরকারী ও মানবাধিকার সংস্থার মন্তব্যের পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক তৎপরতা ও আন্তর্জাতিক চাপের ওপর নির্ভর করে মরদেহ ফেরত পাওয়া সম্ভব হবে কি না তা নির্ধারিত হবে।