যুক্তরাষ্ট্রের স্থগিত থাকা ডাইভারসিটি ভিসা (ডিভি) বা গ্রিন কার্ড লটারি-২০২৭-এর কার্যক্রম পুনরায় চালু করার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির একটি ফেডারেল আদালত। আজকের পত্রিকার প্রতিবেদনে জানানো হয়, ক্যালিফোর্নিয়ার আদালতের এই নির্দেশের ফলে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা কর্মসূচির নিবন্ধন শিগগিরই শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে বাংলাদেশিরা এবার অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন কি না, তা এখনও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার ওপর নির্ভর করছে।
আদালতের রায়ের তারিখ নিয়ে সংবাদমাধ্যমগুলোর মধ্যে সামান্য ভিন্নতা রয়েছে। আজকের পত্রিকা এবং সমকালের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৪ অক্টোবর ক্যালিফোর্নিয়ার ফেডারেল আদালত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দ্রুত সময়সূচি ঘোষণা করে আবেদন গ্রহণের নির্দেশ দেন। দেশ রূপান্তর জানিয়েছে, ফেডারেল বিচারক জিনসুক ওহতা এই অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনা দেন। অন্যদিকে ফোর্বস সাময়িকীর বরাতে ঢাকা টাইমস ও একাত্তর টিভি উল্লেখ করেছে, লটারি চালুর পক্ষে এ রায় এসেছে ১৯ অক্টোবর। রেড ঈগল ল নামের একটি আইনি প্রতিষ্ঠান ও আইনজীবী কার্টিস মরিসন সরকারের স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে এই আইনি পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।
কর্মসূচির সম্ভাব্য সময়সূচি প্রসঙ্গে ফোর্বসের বরাতে ঢাকা টাইমস জানিয়েছে, আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং ১ নভেম্বর থেকে অন্তত এক মাসের জন্য আবেদন গ্রহণ শুরু হতে পারে। তবে আজকের পত্রিকা ও সমকাল উল্লেখ করেছে, মার্কিন প্রশাসন আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করলে পুরো সময়সূচি ও প্রক্রিয়ায় আবারও পরিবর্তন আসতে পারে।
লটারি চালুর আদেশ এলেও বাংলাদেশিদের জন্য সুযোগ উন্মুক্ত হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। আজকের পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন অভিবাসন নীতি অনুযায়ী বিগত পাঁচ বছরে যেসব দেশ থেকে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন, তারা ডিভি লটারির জন্য বিবেচিত হন না। এই নিয়মে ২০১২ সালের পর থেকে বাংলাদেশ এ কর্মসূচি থেকে বাদ পড়ে। নতুন তালিকায় বাংলাদেশ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে কি না, তা পররাষ্ট্র দপ্তরের দেশভিত্তিক চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।
ডিভি লটারির মাধ্যমে প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে সর্বোচ্চ প্রায় ৫৫ হাজার ভিসা দেওয়া হয়। আজকের পত্রিকা ও সমকাল মনে করিয়ে দিয়েছে, লটারিতে বিজয়ী হলেই যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের নিশ্চয়তা মেলে না; আবেদনকারীকে প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত ও পেশাগত যোগ্যতাসহ অভিবাসন আইনের নানা শর্ত পূরণ করতে হয়। পাশাপাশি কোনো প্রতারণার ফাঁদে পা না দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ওয়েবসাইটের তথ্যের ওপর নির্ভর করার বিষয়েও প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে।






