প্রথম আলোর রিপোর্ট অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন মিয়ানমারের সামরিক শাসনকে বিচ্ছিন্ন রাখার দীর্ঘদিনের নীতিতে পরিবর্তন আনার সংকেত দিচ্ছে। গত সেপ্টেম্বরের ১৫ ও ১৬ তারিখে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা ও গবেষণাবিষয়ক অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অব স্টেট মাইকেল ভ্যান্স মিয়ানমারের রাজধানী নেপিডোতে সামরিক শাসনের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইংর সাথে বৈঠক করেছেন।
এই বৈঠক ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো শীর্ষ কর্মকর্তার সাথে মিন অং হ্লাইংর প্রথম সরাসরি মুলাকাত। অফিসিয়ালি এই বৈঠকের লক্ষ্য ছিল মার্কিন নাগরিক অ্যাডাম কাস্তিলোর রিহাই, যাকে গত জুনে আটক করা হয়েছিল। তবে পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, দুই পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থের আরও বিষয়ে আলোচনা করেছেন।
এর আগে গত বছরের জুলাইে, যখন ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের ওপর শুল্ক আরোপের উদ্যোগ নিলেন, তখন মিন অং হ্লাইংকে ব্যক্তিগত চিঠি পাঠিয়ে তাঁকে 'মহামান্য' বলে সম্বোধন করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমার সামরিক সরকারকে স্বীকৃতি দেয় না, তাই এই কূটনৈতিক সম্বোধনটি মিন অং হ্লাইংর জন্য বড় গুরুত্বপূর্ণ ছিল। হ্লাইংও জবাবি চিঠিতে ট্রাম্পের ভাষাশৈলী অনুকরণ করে তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।
পটভূমিতে আছে মিয়ানমারের বিপুল বিরল খনিজ সম্পদ, যা বর্তমানে চীনই উত্তোলন করছে। এপ্রিলে চীন আমেরিকায় বিরল খনিজ রপ্তানি বন্ধ করলে ট্রাম্প প্রশাসন বিকল্প উৎস খুঁজতে লাগল। মিয়ানমারের এই খনিজগুলো অধিকাংশই জাতিগত বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় অবস্থিত, যা আমেরিকার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
মিয়ানমার সামরিক শাসন আমেরিকান লবিং ফার্ম ডিসিআইকে ৩০ লাখ ডলারের চুক্তিতে এবং ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ রজার স্টোনকে মাসে ৫০ হাজার ডলারে নিয়োগ দিয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সন্দেহ জানান যে অভ্যন্তরীণ সংকট এবং চীনের প্রভাবের মাঝপথে ট্রাম্প প্রশাসন কতটুকু দীর্ঘমেয়াদী নীতি অবলম্বন করতে পারবে।






