আজ শুক্রবার (সূত্র অনুযায়ী ২২ বা ২৩ অক্টোবর) মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরী ইউনিয়নের তরা, মির্জাপুর ও রাথুরা চকের জলাশয়ে শতাধিক শৌখিন মৎস্যশিকারি পলো ব্যবহার করে মাছ শিকারে অংশ নেন। একই দিনে ইছামতী শাখা নদীতেও পলোবাইচের আসর অনুষ্ঠিত হয়। ঘিওরের প্রাকৃতিক কৃষিকেন্দ্রের পরিচালক দেলোয়ার জাহান ও বেসরকারি গবেষণা সংস্থা বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী বিমল রায়ের মতে, এই ঐতিহ্যগত কার্যক্রমে অন্তত ৩০০ মৎস্যশিকারের অংশগ্রহণের কথা জানা যায় এবং চলতি অক্টোবর মাসে জেলার অন্তত শতাধিক স্থানে এধরনের আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

মৎস্যশিকারের মধ্যে ইসলাম খান ও মাহফুজ ভূঁইয়া মত অংশগ্রহণকারীরা পলো দিয়ে মাছ ধরার আনন্দ ও বন্ধু-স্বজনের মিলনের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। প্রবীণ বাসিন্দা বারেক মিয়া উল্লেখ করেন যে পূর্বে জলাশয়ে দেশি মাছের প্রাচুর্য ছিল, যদিও বর্তমানে মাছের সংখ্যা কমে গেছে, তবু মানুষ ঐতিহ্য বজায় রেখেছে।

ইনকিলাবের প্রতিবেদনের মতে, একই শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ঘিওরের দেওভোগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে হাডুডু ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় চারটি গ্রামবসতি উদ্যোগে আয়োজিত এই খেলায় সিংজুরী ইউনিয়নের ‘কামারজাগী ভোরের আলো যুব সংঘ’ মাত্র দুই পয়েন্টের ব্যবধানে পয়লা ইউনিয়নের ‘বড় কুষ্টিয়া স্পোর্টিং ক্লাব’কে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস.এ. জিন্নাহ কবির উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি প্রযুক্তি আসক্তি থেকে নতুন প্রজন্মকে মাঠে ফিরিয়ে আনার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।

দু'টি সূত্রই জানায় যে, মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার একটি পরিত্যক্ত তিনতলা ভবনের ছাদে জুয়া ঘর পরিচালনা করে সাতজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে; জুয়া সরঞ্জাম, তাস ও নগদ টাকা জব্দ করা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া, ঘিওরের সিংগাইরে মো. সবুজের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে; পরিবারের দাবি অনুযায়ী তাকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে, যদিও প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা সন্দেহ করা হয়।

আজকের পত্রিকা ও ইনকিলাব উভয়ই উল্লেখ করে যে, ঐতিহ্যবাহী পলো মাছধরা, স্থানীয় ক্রীড়া অনুষ্ঠান এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত কার্যক্রম একসাথে ঘটার ফলে ঘিওরের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক জীবনের বহুমুখিতা প্রকাশ পেয়েছে।