সারাবাংলা অনুসারে, শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রথম প্রভাতে ঢাকা শহরের জাতীয় ঢাকেশ্বরী মন্দিরের প্রাঙ্গণে ষষ্ঠী বিহিত পূজা সম্পন্ন হয়েছে। পুরোহিতের নির্দিষ্ট সংকল্প ও মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে সকালবেলা কল্পারম্ভ এবং ষষ্ঠী পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।
ঐতিহ্যবাহী রীতি ও উপাসনা
মন্দিরের বেলতলায় বেলগাছের পূজা করা হয়, যেখানে গাধা ও চন্দ্রমল্লিকার হলুদ‑কমলা মালা, তাম্র পাত্র, কাঁসার ঘণ্টা, শঙ্খ ও পুষ্পাদানি সাজিয়ে পুরোহিতগণ উপাসনা করেন। বেদিতে পঞ্চপল্লব, আম্র পল্লব, আতপ চাল, নারকেল, ঘট এবং ফুল‑তুলসী ও রক্তজবা রাখা হয়। দেবীর অর্ঘ্য হিসেবে কাটা ফল, আপেল, আঙুর, বাতাবি লেবু, কামরাঙ্গা ও মিষ্টি নিবেদন করা হয়।
ঐ রীতির অংশ হিসেবে পুরোহিত পঞ্চপ্রদীপ জ্বালিয়ে কাঁসার ঘণ্টা বাজিয়ে বেদির শুদ্ধি করেন, এরপর শঙ্খধ্বনি ও ঢাক‑কাঁসরের বাদ্যযন্ত্র মন্দিরকে গুঞ্জনময় করে তোলে। ভক্তগণ অঞ্জলি ও প্রার্থনার জন্য বেদির সামনে সমবেত হন এবং আম্র পল্লব ও ফুল হাতে নিয়ে দেবীর কৃপা কামনা করেন।
উৎসবের সময়সূচি ও পরিসংখ্যান
দুর্গা মন্দিরে দেবী দুর্গা ঘোড়ায় (ঘোট) আগমন করে এবং নৌকায় বিদায় নেয়। শারদীয় দুর্গোৎসবের মূল দিনগুলোতে ছয় দিন ধরে ঢাকঢোল ও কাঁসার বাদ্যযন্ত্রের সুরে পূজা মণ্ডপগুলো গুঞ্জন করবে। মহাসপ্তমী শনিবার ও রোববার, এরপর মহা অষ্টমী, মহানবমী এবং বিজয়া দশমী অনুসরণ করবে। বিজয়া দশমীর বেলা তিনটায় ঢাকাসহ সারা দেশে শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ ও মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির তথ্য অনুযায়ী, এই বছর দেশে মোট ৩৩,৮৫১টি দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা গত বছরের ৩২,৩৫১টির তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। ঢাকা মহানগরে ২৫৮টি পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে গত বছর ২৬১টি পূজা ছিল।
রাজশাহীর চকলেটের কয়েনের সাজসজ্জা
সমকালের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার তাহেরপুরে গঙ্গা মন্দিরে দেবী দুর্গার প্রতিমা ১০,০০০টি সোনালী চকলেটের কয়েন দিয়ে সজ্জিত করা হয়েছে। নোবো জাগরণ সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সুজিত কুমার হালদার জানান, এই উদ্যোগের মোট খরচ ৮০,০০০ টাকা এবং উদ্দেশ্য দর্শনার্থীদের জন্য নতুনত্ব ও আনন্দের পরিবেশ তৈরি করা। গঙ্গা মন্দিরের কমিটির সাধারণ সম্পাদকও একইভাবে উল্লেখ করেছেন যে, চকলেটের কয়েনের ব্যবহার দর্শনার্থীদের আকর্ষণ বাড়িয়ে তুলেছে।
উভয় প্রতিবেদনের তথ্য একত্রে দেখায় যে, শারদীয় দুর্গোৎসবের বিভিন্ন মন্দিরে ঐতিহ্যবাহী রীতি ও আধুনিক সৃজনশীলতা উভয়ই উদযাপিত হচ্ছে, যা দেশের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসবের বৈচিত্র্যকে তুলে ধরে।






