একাত্তর টিভির মতে, রাশিয়া সোমবার রাতভর কিয়েভ ও তার আশপাশের অঞ্চলে অন্তত ১৬টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং সমগ্র ইউক্রেনে ২০০টিরও বেশি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। এই বিস্তৃত হামলার ফলে দেশের পাঁচ লাখেরও বেশি পরিবার বিদ্যুৎহীন অবস্থায় পড়েছে।
হামলায় কিয়েভে এক নারী এবং শিল্পনগরী ক্রিভি রিহ-তে দুজনসহ মোট তিনজন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি টেলিক্রমে জানান, আক্রমণের আগে পশ্চিমা মিত্রদের কাছ থেকে কোনো আগাম সতর্কবার্তা বা গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া যায়নি।
ইউক্রেনীয় বিমান বাহিনীর মুখপাত্র ইউরি ইহনাত উল্লেখ করেন, প্রথম দফায় তথ্য সরবরাহ না থাকলেও দ্বিতীয় দফায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে তথ্য প্রদান করা হয়েছে। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কিয়েভের সাথে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান বন্ধ রাখার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ইউক্রেনের সামরিক শিল্প কারখানা, ড্রোন ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ কেন্দ্র এবং ডেটা সেন্টার লক্ষ্য করে এই "ব্যাপক হামলা" চালিয়েছে। ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী সেরহি কোরেৎস্কি উল্লেখ করেন, হামলা মূলত দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে, ফলে গৃহস্থালি ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোতে পর্যায়ক্রমিক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা (লোড শ্যাডিং) চালু হয়েছে।
কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিৎসকো জানান, রেলওয়ে স্টেশন, ওষুধের গুদাম ও আবাসিক ভবন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউক্রেনীয় বিমান বাহিনী দাবি করে, তারা ২৪৭টি লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করেছে, যার মধ্যে ৪টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ২৪৩টি ড্রোন অন্তর্ভুক্ত।
এই তথ্য একাত্তর টিভি থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।



