বাংলা ট্রিবিউন অনুযায়ী, শুক্রবার সৌদি প্রো লিগে আল ফয়সালির বিপক্ষে আল নাসরের ৩-১ গোলের জয়ের ম্যাচে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো নিজের ক্যারিয়ারের ৯৮২তম গোল দাবি করেছেন। কিন্তু গোলটির কৃতিত্ব নিয়ে বিতর্ক উঠেছে।

গোলটির ঘটনাক্রম

ম্যাচের ৪৯ মিনিটে জোয়াও ফেলিক্সের ফ্রি-কিকে বল পেনাল্টি বক্সে পৌঁছালে রোনালদো হেডারের জন্য লাফিয়ে ওঠেন। বলটি প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডার আন্দ্রেই জিরোত্তোর গায়ে লেগে জালে ঢুকে। রোনালদো সঙ্গে সঙ্গেই নিজের ট্রেডমার্ক 'সিউ' উদযাপন করেন।

দুই পক্ষের ভিন্ন মতামত

সৌদি প্রো লিগের আনুষ্ঠানিক রেকর্ডে গোলটি রোনালদোর নামেই রয়েছে। ম্যাচ হাইলাইটসেও শিরোনাম দেওয়া হয়েছে 'আল নাসরের জয়ে রোনালদোর ৯৮২তম গোল'। সৌদি সাংবাদিক আলি আল আনজির দাবি, রেফারির আনুষ্ঠানিক ম্যাচ রিপোর্টেও গোলটি রোনালদোর নামে লেখা হয়েছে।

অন্যদিকে, চারটি বড় ফুটবল পরিসংখ্যান প্ল্যাটফর্ম—অপটা, সোফাস্কোর, ফটমব ও ফ্ল্যাশস্কোর—গোলটি জিরোত্তোর আত্মঘাতী গোল হিসেবে নথিভুক্ত করেছে। ইএসপিএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাদের পরিসংখ্যান সরবরাহকারী অপটাও ঘটনাটিকে আত্মঘাতী গোল হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে। ওই হিসাব অনুযায়ী রোনালদোর ক্যারিয়ার গোলসংখ্যা ৯৮১।

নियम ও অনিশ্চিততা

সাধারণত আক্রমণকারীর শট গোলের দিকেই গিয়ে ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে জালে ঢুকলে গোলটি আক্রমণকারীরই মाना হয়। কিন্তু শট গোলের বাইরে গিয়ে ডিফেন্ডারের স্পর্শে দিক পরিবর্তন করলে সেটি আত্মঘাতী গোল গণ্য হয়। রোনালদোর এই গোলের ক্ষেত্রে ভিডিও ফুটেজ থেকে নিশ্চিত হয়নি বলটি জিরোত্তোর গায়ে লাগার আগে রোনালদো স্পর্শ করেছিলেন কিনা।

অন্য ঘটনা

বিতর্কিত গোলের তিন মিনিট পর ৫২ মিনিটে রোনালদো আবার গোল করেছিলেন, কিন্তু ভিএআর পর্যালোচনার পর অফসাইডের কারণে সেটি বাতিল করা হয়। সেটি বৈধ হলে সৌদি লিগের হিসাব অনুযায়ী তাদের ক্যারিয়ার গোল হতো ৯৮৩।

আপাতত সৌদি প্রো লিগ গোলটিকে রোনালদোর ৯৮২তম গোল হিসেবেই স্বীকৃতি দিচ্ছে। ওই হিসাবে ১ হাজার গোলের মাইলফলক ছুঁতে তার প্রয়োজন ১৮টি গোল। অপটার হিসাব অনুসরণ করলে গোলসংখ্যা ৯৮১, অর্থাৎ মাইলফলক থেকে ১৯ গোল দূরে।