ঢাকা পোস্টের মতে, ১০ অক্টোবর রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৪৫ সদস্যের বাংলাদেশি উমরাহ কাফেলার দলনেতা মুফতি মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরি (৪৫) নিহত হন। তিনি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বদরপুরের বাসিন্দা এবং ইমাম ছিলেন।
হামলায় অন্যান্য উমরাহযাত্রীও আহত হন; ঢাকা পোস্টে সুনির্দিষ্ট সংখ্যা উল্লেখ না থাকলেও, ঢাকা টাইমসের প্রতিবেদনে ২৪ জন বাংলাদেশি আহত ও ৭ জনকে সৌদি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, আর অন্য একটি সূত্রে অন্য এক বাংলাদেশি নাগরিকও নিহত হয়েছেন – এই তথ্যগুলোতে পার্থক্য রয়েছে।
ধর্মমন্ত্রীর তৎপরতা
হামলার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) উমরাহ কাফেলার সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে, সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশ মিশনের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে আহতদের উদ্ধার ও চিকিৎসা ব্যবস্থা করেন। তিনি সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন থাকলেও পরিবারের ও আহতদের অবস্থা জানার জন্য সর্বদা সক্রিয় ছিলেন। ল্যাজেজ হারিয়ে যাওয়ায় নতুন পোশাক ও খাবারের ব্যবস্থা, দেশে ফেরার টিকিট নিশ্চিতকরণ এবং নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের জন্য সরকারী সমন্বয় চালিয়ে গেছেন।
১৩ অক্টোবর মন্ত্রীর পক্ষ থেকে মাওলানা ইয়াকুব ওসমানীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বদরপুরে গিয়ে শহীদ পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানায় এবং শহীদের দাফন (জান্নাতুল বাকিতে অথবা দেশে) ও পরিবারের স্থায়ী আবাসন, সন্তানদের শিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করার আশ্বাস দেয়। এছাড়া মন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে পরিবারকে ৫০,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।
আহত উমরাহযাত্রীদের প্রত্যাবর্তন
২০ অক্টোবর রাত ২৩:২০ টায় সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ৩৩ জন উমরাহযাত্রী নিরাপদে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। ধর্মমন্ত্রীর একান্ত সচিব ছাদেক আহমদ, হজ অনুবিভাগের পরিচালক মো. লোকমান হোসেন এবং মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে স্বাগত জানান। ছাদেক আহমদ সাংবাদিকদের জানান, মন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে ফিরে আসা যাত্রীদের জন্য নৈশভোজের ব্যবস্থা করেছেন এবং তাদের মাদ্রাসা ও বাসায় নিরাপদে পৌঁছানোর জন্য পরিবহনের ব্যবস্থা করেছেন। তিনি ভবিষ্যতেও প্রয়োজনীয় সব সহযোগিতা অব্যাহত রাখবেন এবং প্রয়োজন হলে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেবেন।
বিমানবন্দরে জামেয়া আরাবিয়া রবিউল উলুম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুফতি ফয়জুল্লাহ, জাতীয় ইমাম পরিষদের নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
তথ্য ঢাকা পোস্ট অনুযায়ী; অতিরিক্ত বিবরণ ঢাকা টাইমস ও চ্যানেল আই থেকে নেওয়া হয়েছে।






