ইত্তেফাকের তথ্য অনুযায়ী, পোলট্রি ফিড উৎপাদনে ব্যবহৃত ভুট্টা ও সয়াবিনের দাম সাম্প্রতিক সময়ে যথাক্রমে ২৪ শতাংশ ও ১৪ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে পোলট্রি ফিডের দাম ৬৮ টাকা থেকে ৭২ টাকা ৫০ পয়সায় বৃদ্ধি পেয়ে মাত্র ৭ শতাংশের কাছাকাছি হয়েছে।
ফিড উৎপাদকদের মতে, কাঁচামালের দামের দ্রুত বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ ব্যয়ের বৃদ্ধির ফলে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে, তবে তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে দাম বাড়ানো কঠিন। বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিআইএ) সভাপতি মোশাররফ হোসেন চৌধুরী জানান, গত আগস্টে আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন মিলের দাম ১০০ ডলার থেকে ৫৩০ ডলারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক মো. আনোয়ারুল হক উল্লেখ করেন, দেশের পোলট্রি ফিড শিল্পের প্রায় ৬৫ শতাংশ কাঁচামাল আমদানির ওপর নির্ভরশীল, ফলে আন্তর্জাতিক মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি শিল্পকে প্রভাবিত করে। এছাড়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে পোল্ট্রি শিল্পের আয়কর ১৫ শতাংশ থেকে ২৭.৫ শতাংশে বাড়ানো হয়েছে, যা প্রতিষ্ঠানের নিট লাভ কমিয়ে দিয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি প্রতিবেদনে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ভিত্তিতে ব্রয়লার গ্রোয়ার ফিডের উৎপাদন ব্যয় প্রতি কেজি ৬১ টাকা ৭৭ পয়সা এবং বিক্রয়মূল্য ৬৯ টাকা ৭৫ পয়সা নির্ধারিত হয়েছে, তবে পুরো শিল্পের মুনাফা চিত্র বুঝতে আরও বিস্তৃত তথ্যের প্রয়োজন।
ইত্তেফাকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে দেশে বর্তমানে প্রায় ১৫০টি প্রতিষ্ঠান বছরে ৭৫ লাখ টন প্রাণিক খাদ্য উৎপাদন করে, যার প্রায় ৭০ শতাংশ পোলট্রি খাতে ব্যবহৃত হয়। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় ২০৩০ সালের মধ্যে প্রাণিক খাদ্যের চাহিদা এক কোটি টনে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখিত সব তথ্য ইত্তেফাকের সূত্রে ভিত্তিক এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মন্তব্য অন্তর্ভুক্ত করে।






