সমকালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট ১০১৩টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে ৭৩ জন নিহত এবং ৬,৪৭৩‑এর বেশি ব্যক্তি আহত হয়েছেন। একই সময়ে মব সহিংসতা ও গণপিটুনির ৩৯৮টি ঘটনার ফলে ১৮৭ জনের মৃত্যু ঘটেছে।

প্রথম আলোও এই সংখ্যাগুলো পুনরায় উল্লেখ করেছে এবং অতিরিক্ত বিশ্লেষণ যোগ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক সহিংসতার ৯১ শতাংশই বিএনপি অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও অন্যান্য দলগুলোর সঙ্গে সংঘর্ষে ঘটেছে। বিএনপি অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ৩৪২টি ঘটনা, ৪০ জন নিহত ও ২,৬৩২ জন আহত; বিএনপি‑জামায়াত সংঘর্ষে ৩২১টি ঘটনা, ১১ জন নিহত ও ২,১৯০ জন আহত। নির্বাচনী‑সংক্রান্ত ৪০২টি ঘটনায় ১৩ জন নিহত ও ২,৬২৩ জন আহত। সমকালের তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে, রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ৭৩ জনের মধ্যে ৪৬ জনের দলবদ্ধতা বিএনপি, ৮ জন জামায়াত, ৬ জন আওয়ামী লীগ, এবং ১২ জনের রাজনৈতিক পরিচয় অজানা।

মব সহিংসতা ও অন্যান্য অপরাধ

প্রথম আলো ও দেশ রূপান্তর উভয়ই মব সহিংসতায় ১৮৭ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে। তবে নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের সংখ্যা নিয়ে পার্থক্য রয়েছে: সমকাল ২৪০৪ নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের তথ্য দিয়েছে, যার মধ্যে ৬৫৭ জনের উপর ধর্ষণ ঘটেছে এবং ২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশ রূপান্তর ৬৩৭ নারী নির্যাতনের উল্লেখ করেছে, যেখানে ৬০ শতাংশ শিশু হিসেবে বর্ণিত। এই পার্থক্যগুলোকে যাচাই করা প্রয়োজন।

অতিরিক্তভাবে, সমকাল জানিয়েছে ৯৫ জন বন্দী কারাগারে মারা গেছেন, এবং ৫১৮ জন সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। প্রথম আলো অনুসারে, সাংবাদিক নির্যাতনে ২৮৮টি ঘটনা, ২৯৭ জনের আহত, ৮৭ জনের লাঞ্ছিত, এবং ২০ জনের আটক হওয়া অন্তর্ভুক্ত।

এই তথ্যগুলো মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) এর প্রতিবেদন থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে, যা বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকের সংবাদ ও সংগঠনের নিজস্ব অনুসন্ধানী গবেষণার উপর ভিত্তি করে তৈরি।