প্রথম আলো অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৯ অক্টোবর (সোমবার) সকাল ১০টায় রাজধানীর ঐতিহাসিক ওসমানী উদ্যানের মধ্যে নতুন নির্মিত ৯০ ফুট উঁচু ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ উদ্বোধন করেন। তিনি জুলাই গণ‑অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে স্মৃতিস্তম্ভের প্রাঙ্গণে গাছের চারা রোপণ করেন।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খান, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার এবং ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম ও শফিকুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।
স্মৃতিস্তম্ভের গায়ে লেজার কাটিংয়ের মাধ্যমে ৮৩৪ শহীদদের নাম খোদাই করা হয়েছে এবং সামনে ২০টি প্রতীকী সমাধিফলক স্থাপন করা হয়েছে। স্মৃতিস্তম্ভের বাইরের রিলিফ ভাস্কর্য ১৬৩ ফুট দীর্ঘ ও সাড়ে ৪ ফুট উঁচু, আর ভেতরের রিলিফ ১৭১ ফুট দীর্ঘ ও সাড়ে ৭ ফুট উঁচু, যেখানে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণ‑অভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের গণ‑আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণ‑অভ্যুত্থানসহ দেশের ধারাবাহিক সংগ্রামের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
এরপর প্রধানমন্ত্রী আধুনিকায়িত ওসমানী উদ্যানের উদ্বোধন করেন। আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে পুরোনো জলাশয়ের সংস্কার, পাঁচটি নতুন জলাশয় নির্মাণ, বিদ্যমান গাছপালা সংরক্ষণ ও নতুন বৃক্ষরোপণ, সবুজ দ্বীপ তৈরি, প্রায় ৩.১ কিমি হাঁটার পথ, ব্যায়ামাগার, প্যাগোডা, গণশৌচাগার, পার্কিং ও জলাশয়ের ঘাট, ৫০,০০০ লিটার ধারণক্ষমতার বৃষ্টির পানির সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং দুই স্তরে সাজানো দ্রুত চলাচলের পথ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ঢাকা টাইমসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই আধুনিকায়ন প্রকল্পে প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে এবং উদ্যানের মধ্যে লেক, ফোয়ারা, আধুনিক লাইব্রেরি, ক্যাফেটেরিয়া, শিশুদের বিনোদন কেন্দ্রসহ বিভিন্ন সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে। তবে মূল প্রতিবেদকে এই আর্থিক তথ্য উল্লেখ করা হয়নি; তাই এই তথ্যের সঠিকতা যাচাই করা প্রয়োজন।
প্রথম আলো অনুসারে, স্মৃতিস্তম্ভের নির্মাণে প্রায় এক একর জমি ব্যবহার করা হয়েছে এবং ২০টি প্রতীকী সমাধিফলক স্থাপন করা হয়েছে। অন্যান্য সূত্রে (চ্যানেল আই, একাত্তর টিভি) একই অনুষ্ঠানকে উল্লেখ করা হয়েছে, তবে সেখানে উপস্থিত পরিবারের সদস্যদের নাম ও বিশদ উল্লেখ করা হয়নি।
এই দুই প্রকল্পের মাধ্যমে জুলাই গণ‑অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং রাজধানীর নাগরিক পরিবেশ উন্নয়নের লক্ষ্য বাস্তবায়িত হয়েছে।






