হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা ১৬ অক্টোবর মহা ষষ্ঠীর মাধ্যমে শুরু হয়ে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত চলে। সরকার পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে, পুলিশ, বিশেষায়িত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিজিবি, আনসার ও ভিডিপি এবং স্থানীয় প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব অর্পণ করে।

সরকারের লক্ষ্য ছিল পূজামন্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ, গুজব ও অপতথ্য ছড়ানো রোধ করা এবং প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত শৃঙ্খলা বজায় রাখা। এর ফলস্বরূপ, দেশজুড়ে ৩ লক্ষেরও বেশি আইনশৃঙ্খলা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ৩৪ স্থানে হামলা, প্রতিমা ভাঙচুর এবং চুরির অভিযোগ জানায়। তদন্তে দেখা যায় অধিকাংশ ঘটনা নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব, চোরের কাজ বা মানসিক অস্থিরতার ফলে ঘটেছে; কোনো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সাম্প্রদায়িক ক্ষতি ঘটেনি।

আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সহকারী পরিচালক নাজমুস সাকিবের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ আছে যে, দুর্গাপূজার সময় ১৩১টি ঘটনার মোকাবিলায় ২০টি প্রতিমা ভাঙার প্রচেষ্টা, ৩৬টি অন্যান্য সমস্যা, ২টি অগ্নিসংযোগ এবং ১৩টি মাদক সংক্রান্ত ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। ২৪টি পৃথক ঘটনে ৪৯ জন দুষ্কৃতকারী গ্রেফতার, ১৫ শিশুকে উদ্ধার এবং চুরির জন্য ৬ জন গ্রেফতার করা হয়েছে।

রাজধানীর রমনা কালীমন্দিরে উপস্থিত রাহুল দে দেশ রূপান্তরকে জানান, "এবারের পূজা পরিবেশ একেবারেই অন্যরকম, কোনো ভয় বা শঙ্কা দেখিনি।" একইভাবে, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা এবং সভাপতি বাসুদেব ধর উভয়ই সরকারের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে প্রশংসা করেছেন।

পুলিশের এআইজি কামারুম মুনিরা উল্লেখ করেন, পূজাকেন্দ্রিক অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সাদা পোশাকের পুলিশ, সিআরটি, কিউআরটি, ক্রাইম সিন ভ্যান এবং বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট সার্বক্ষণিক প্রস্তুত ছিল। পূজার সময় ড্রোন ও হেলিকপ্টার ব্যবহার, ২৪ ঘণ্টা সাইবার টিমের নজরদারি এবং তিন স্তরের নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়েছে।

সচিবালয়ের নিরাপত্তা সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ উল্লেখ করেন, দেশের ৩৩,১৬৫টি পূজামন্ডপের মধ্যে ৬,৯১৪টি গুরুত্বপূর্ণ, ১১,৭৮১টি গুরুত্বপূর্ণ এবং ১৪,৪৭০টি সাধারণ মন্ডপ রয়েছে; ঢাকার ১,১২৬টি মন্ডপের মধ্যে ২৯৬টি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত।

অনুযায়ী দেশ রূপান্তর, নিরাপত্তা ব্যবস্থার সফলতা দেশের ধর্মীয় স্বাধীনতা, নিরাপত্তা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়েছে।