বিদ্যুৎ ও সারের ভর্তুকি কমিয়ে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জনের লক্ষ্যে সরকার একাধিক নীতি গ্রহণ করেছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) অনুযায়ী, পিডিবি প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ গড়ে ১২ টাকা ৮০ পয়সায় কিনে ৮ টাকা ৫০ পয়সায় বিক্রি করছে, ফলে প্রতি ইউনিটে সরকারকে ৪ টাকা ৩০ পয়সা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। এই আর্থিক চাপ কমাতে সরকার গড় ট্যারিফের চেয়ে বেশি দামে নতুন কোনো বিদ্যুৎ চুক্তি করবে না এবং বিদ্যমান উচ্চমূল্যের চুক্তির মেয়াদ বাড়াবে না।

গত ৬ অক্টোবর অর্থ বিভাগকে পাঠানো চিঠিতে বিদ্যুৎ বিভাগের বলা হয়েছে, এই নীতি মূল্য ব্যবধানের ফলে সৃষ্ট আর্থিক চাপ কমাতে গৃহীত হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) তিন বছরের সংস্কার রোডম্যাপের অধিকাংশ সুপারিশ সরকার ইতোমধ্যে কার্যকর করেছে এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির প্রয়োজন উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিপিডিবির ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্বাধীন বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের (আইপিপি) কাছ থেকে বিদ্যুৎ ক্রয়ের গড় দাম ছিল প্রতি ইউনিট ১৪ টাকা ৫৬ পয়সা; রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ১৩ টাকা ৫৭ পয়সা এবং ভারতের আদানি পাওয়ার থেকে ১৪ টাকা ৮৬ পয়সা। বিপিডিবি চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম জানান, সরকারি মালিকানাধীন কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের দাম ইতিমধ্যে গড় দরের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে অন্যগুলোতেও একই পদ্ধতি প্রয়োগ করা হবে।

এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিস ইনস্টিটিউটের প্রধান বিশ্লেষক শফিকুল আলম এই পদক্ষেপকে ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন, সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা হলে এটি ভর্তুকি কমাতে এবং বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির চাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে।

সারের ভর্তুকিতে বৈষম্য দূর করার জন্য সরকার বিশ্বব্যাংকের ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’ প্রতিবেদনের সুপারিশ বিবেচনা করছে। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সরকারি সারের ভর্তুকির প্রায় অর্ধেক বড় কৃষকদের কাছে যায়, আর ৪০ শতাংশ ক্ষুদ্র কৃষকের ভাগে মাত্র ১৩ শতাংশ সহায়তা পৌঁছায়। গত পাঁচ বছরে সারের ভর্তুকি প্রায় চার গুণ বাড়ে ২৮,০০০ কোটি টাকায়। বিশ্বব্যাংক ধীরে ধীরে সারের দাম নিয়ন্ত্রণ তুলে দিয়ে বাজারভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ এবং কৃষক কার্ডের সঙ্গে ইলেকট্রনিক ভাউচার যুক্ত করে ক্ষুদ্র কৃষকদের সরাসরি সহায়তা দেওয়ার সুপারিশ করেছে; সরকার এই সুপারিশ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে এবং কৃষকদের তথ্যভান্ডার তৈরি করছে।

এই তথ্য ইনকিলাবের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে।