বিবিসি বাংলার রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশে নির্বাচিত সরকার গঠনের পরেও মব হিংসার ঘটনা কমেনি, বরং তা বেড়েছে বলে মানবাধিকার সংগঠনরা দাবি করছেন।

পরিসংখ্যান কী বলে

মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের তথ্যমতে, ২০২৬ সালের ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ৫৩৭টি মব ঘটনা ঘটেছে, যাতে ২৫৬ জন নিহত এবং ৫৭৫ জন আহত হয়েছেন। গত বছর এই সংখ্যা ৪২৮টি ছিল এবং ২০২৪ সালে ১৬৯টি। আবার আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, এবছর সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মব হিংসায় ১৭১ জন নিহত হয়েছেন, যা ২০২৪ সালের ১২৮ এবং গত বছরের ১৯৮ এর চেয়ে বেশি।

রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ

মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী সাইদুর রহমান বিবিসি বাংলাকে বলেন, সম্পত্তি দখল কেন্দ্রিক মব ঘটনায় ক্ষমতাসীন দল বিএনপি এবং ধর্ম অবমাননা কেন্দ্রিক মব ঘটনায় প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতাকর্মীদের সংশ্লিষ্টতার প্যাটার্ন দেখা গেছে। তিনি দাবি করেন, জামায়াত মব ঘটনায় যথেষ্ট প্রতিক্রিয়া দেয় না।

যদিও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মতিউর রহমান আকন্দ এই অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, দলটি বহুবার মবের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব সরকারের।

সরকারের দাবি ও বাস্তবতা

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ দাবি করেছেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে মব ঘটনা ৪০ শতাংশ কমেছে। তিনি রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও প্রায় সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন এবং বলেছেন, তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা খুব কম।

মানবাধিকারকর্মীদের সুপারিশ

মানবাধিকারকর্মীরা মব হিংসা বন্ধের জন্য বিচার নিশ্চিতকরণ এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মাধ্যমে প্রশাসনকে সক্রিয় করার সুপারিশ দিয়েছেন। সাইদুর রহমান বলেন, মবকারীদের নামে মামলা দিয়ে বিচার করা হয়নি, বরং শিকারদের ওপর মামলা হয়।