ইত্তেফাকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসলামাবাদে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোগাদ্দাম শনিবার (২৫ অক্টোবর) একটি সেমিনারে বলেন, গত জুনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া অন্তর্বর্তী সমঝোতার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে ইরান প্রস্তুত। তবে ওয়াশিংটনের কর্মকাণ্ড কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে এবং হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রাষ্ট্রদূত মোগাদ্দাম জানান, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করা হলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে তেহরান প্রস্তুত ছিল। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ অব্যাহত রাখার কথা জানিয়ে সেই উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।

অন্যদিকে, ইরানের একটি সংশ্লিষ্ট সূত্র আল আরাবিয়াকে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিনিময়ে মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের প্রস্তাব দেওয়ার খবর অসত্য। তেহরান প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়টিকে নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের সঙ্গে যুক্ত করে কোনো সমঝোতা মেনে নেয়নি। পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের কাছেও নতুন কোনো প্রস্তাব পাঠানো হয়নি।

সূত্রটি আরও জানান, ইরানের সাত দফা শর্তসংবলিত পরিকল্পনা আগেই মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠানো হয়েছে। এসব শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। ইরানের বন্দর ও নৌপরিবহনে মার্কিন বিধিনিষেধ তুলে নেওয়াকেই দেশটির অন্যতম প্রধান দাবি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইরানের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তাহীনতা তৈরির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ড দায়ী। মার্কিন অবরোধ মোকাবিলায় নিজস্ব উপায় ব্যবহার অব্যাহত রাখার কথাও জানিয়েছে তেহরান।

এদিকে, পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মোগাদ্দাম। চুক্তিটিকে আঞ্চলিক ঐক্য প্রতিষ্ঠার সম্ভাব্য মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, চুক্তিটি ভালো হলে ইরান তা সমর্থন করবে। তুরস্ক চুক্তিটি অনুমোদনের জন্য পার্লামেন্টে পাঠিয়েছে এবং ইয়েমেনে হুতিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা নাকচ করেছে। পাকিস্তানও জানিয়েছে, চুক্তির আওতায় তাদের ভূমিকা প্রতিরক্ষামূলক কার্যক্রমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।