একাত্তর টিভি অনুসারে, ইরান ওমান সাগর ও আরব সাগরের পূর্বাংশে নৌবাহিনীর নতুন কৌশলগত সামরিক ইউনিট মোতায়েন করেছে। ইরানি প্রেস টিভির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে যে, কোনো বাণিজ্যিক জাহাজের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রাখলে সেটিকে শত্রুভাবাপন্ন হিসেবে চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একই সূত্রে জানানো হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে এবং ওয়াশিংটনের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করতে গত দশ দিন ধরে হরমুজ প্রণালীর হামলার ধরন ও গতিতে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে।
ইরান-ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের সূচনা থেকে হরমুজে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলা রেকর্ড মাত্রায় পৌঁছেছে; সামুদ্রিক নজরদারি সংস্থা কেপলার ও যুক্তরাজ্যের ইউকেএমটিও অনুযায়ী, ৬ অক্টোবর থেকে ১৪ অক্টোবরের মধ্যে অন্তত ১৫টি আলাদা জাহাজে আক্রমণ ঘটেছে।
এই প্রণালী বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের ২০ % সরবরাহ করে; ৮ অক্টোবরের দিনে দৈনিক ২০.৮ মিলিয়ন ব্যারেল তেল হরমুজে পরিবাহিত হতো, তবে ১১ অক্টোবরের দিনে মাত্র ২.৯ মিলিয়ন ব্যারেল হ্রাস পেয়েছে, যা চলতি মাসের সর্বনিম্ন। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১০৬.৫৮ ডলারে স্থিত হয়েছে।
ইরান যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশেষ জ্বালানি ট্রানজিট, ‘শাটল সিস্টেম’ ধ্বংসের ঘোষণা দিয়েছে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই দাবিকে ভিত্তিহীন বলে খারিজ করেছে এবং ইরানি বিপ্লবী গার্ডের নৌপ্রধানের আদেশে কোনো কার্যকর নৌবাহিনী নেই বলে মন্তব্য করেছে।
মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের রাডার সক্ষমতা ধ্বংসের পর ইরান ছোট মাছ ধরার ট্রলার ব্যবহার করে মার্কিন ও মিত্রবাহিনীর জাহাজের তথ্য সংগ্রহ করছে; সাম্প্রতিক সময়ে একটি গুপ্তচর ট্রলার সরাসরি ধ্বংস করা হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের ইয়র্ক ইউনিভার্সিটির রাজনৈতিক বিশ্লেষক ক্রিস ফেডারস্টোন আল জাজিরা উল্লেখ করেন, হরমুজে একক কোনো দেশের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেই এবং ইরান হামলার মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যর্থতা প্রকাশ করে রাজনৈতিক চাপ বাড়াতে চায়।
অন্যান্য মিডিয়া অনুসারে, নিউজ২৪ রিপোর্টে ইরানীয় ইরান রকেট ও স্পেস অর্গানাইজেশন (আইআরজিসি) প্রধানের বক্তব্য উল্লেখ করা হয়েছে যে, হরমুজে বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ ইরান সহ্য করবে না।
উপরের সব তথ্য একাত্তর টিভি ও নিউজ২৪ের প্রকাশিত বিবরণীর ভিত্তিতে সংকলিত।






