বাংলা ট্রিবিউনের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই আন্দোলনের সময় আশুলিয়ায় ছয় জনের দেহ পোড়ানোর ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রাজসাক্ষী ছিলেন আশুলিয়া থানার সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) শেখ আবজালুল হক। তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল‑২‑এর ৫ ফেব্রুয়ারি রায়ে খালাস পান এবং পরবর্তীতে ১৩ অক্টোবর গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার‑২ থেকে মুক্তি পেয়েছেন। কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার‑২-এর জেলা মো. আরিফুর রহমান ১৯ অক্টোবর বিকালে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

এই মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামসহ মোট ১৬ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল; যার মধ্যে আটজন গ্রেফতার আছেন এবং অন্য আটজন পলাতক। গ্রেফতারকৃত সাতজনের মধ্যে রয়েছে সাভার সার্কেলের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শহিদুল ইসলাম, ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহিল কাফি, ঢাকা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাবেক পরিদর্শক মো. আরাফাত হোসেন, আশুলিয়া থানার সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল মালেক, আরাফাত উদ্দীন, কামরুল হাসান এবং সাবেক কনস্টেবল মুকুল চোকদার। পলাতক অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছে সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।

মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামসহ ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড, সাতজনকে আজীবন কারাদণ্ড এবং দুইজনকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে; অন্যদিকে শেখ আবজালুল হককে খালাস দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে এই প্রথম ঘটনা, যেখানে জুলাই আন্দোলনের কোনো মামলায় অভিযুক্তকে রায়ের পর কারামুক্ত করা হয়েছে।

এই ঘটনা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট, যখন শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়েছিলেন, তখন ঘটেছিল। একই দিনে আশুলিয়ায় ছয়জনের দেহ পোড়ানো এবং সাতজনকে হত্যার অভিযোগে ১১ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হয়।

উল্লেখ্য, উপরের তথ্য বাংলা ট্রিবিউনের প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে উপস্থাপিত হয়েছে।