চ্যানেল আই অনুসারে, ফ্রান্সে গবাদিপশুর মধ্যে ছড়িয়ে পড়া শামোন্ডা ভাইরাসের প্রথম মানব সংক্রমণ নিশ্চিত করা হয়েছে এবং আক্রান্ত রোগী অক্টোবরের শুরুর দিকে মারা গেছেন। ফরাসি কর্তৃপক্ষের মতে, সাধারণ মানুষের জন্য বর্তমানে কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি চিহ্নিত হয়নি।
শামোন্ডা ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য
শামোন্ডা ভাইরাস সাধারণত গবাদিপশু, ঘোড়া, আলপাকা, ভেড়া ও ছাগলের মধ্যে পাওয়া যায় এবং ছোট কামড়ানো মাছির মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্ব প্রাণিস্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউওএএইচ) জানায়, এই ভাইরাসটি ১৯৬০‑এর দশকের মাঝামাঝি নাইজেরিয়ায় প্রথম শনাক্ত হয়। ২০২৬ সালের জুলাই মাসে জার্মানি, সুইজারল্যান্ড ও ফ্রান্সের পূর্বাঞ্চলে গরুর নমুনা পরীক্ষা করে ইউরোপে প্রথমবারের মতো উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়। ফরাসি সাপ্তাহিক প্রাণিস্বাস্থ্য প্রতিবেদনে অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, লিশটেনস্টাইন, লুক্সেমবার্গ, নেদারল্যান্ডস, পর্তুগাল, স্লোভেনিয়া, স্পেন ও যুক্তরাজ্যের জার্সি দ্বীপেও ভাইরাসের উপস্থিতি উল্লেখ করা হয়েছে।
মানব কেসের বিবরণ
ফরাসি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, রোগী পূর্ব ফ্রান্সের (প্রতিবেদনগুলোতে লিঁও শহর উল্লেখ করা হয়েছে) এলাকায় ছোট রক্তচোষা মাছির কামড়ে সংক্রমিত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। রোগী পূর্বে গুরুতর অসুস্থতা বা দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন; এ বিষয়টি প্রথম আলো ও চ্যানেল ২৪ উভয়ই উল্লেখ করেছে। রোগীর মৃত্যুর কারণ শামোন্ডা ভাইরাস কিনা তা এখনও তদন্তাধীন, এবং ইউরোপীয় রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র (ইসিডিসি) এই ঘটনার ওপর সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে।
ফরাসি কর্তৃপক্ষের মতে, শামোন্ডা ভাইরাসের কোনো বাণিজ্যিক টিকা বর্তমানে পাওয়া যায় না, তবে এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী সাধারণ জনগণের জন্য কোনো জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি শনাক্ত হয়নি।
ফ্রান্সের নয়টি দুগ্ধ খামারে পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, আক্রান্ত গরুর দুধ উৎপাদন সর্বোচ্চ ৭৫ % পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে। তবে এই পশুসম্পর্কিত প্রভাবের সঙ্গে মানব স্বাস্থ্যের সরাসরি কোনো সংযোগ পাওয়া যায়নি।
এই তথ্যগুলো চ্যানেল আই, প্রথম আলো, চ্যানেল ২৪ এবং সমকালের প্রতিবেদন থেকে সংকলিত এবং যথাযথভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।






