প্রথম আলো অনুসারে, বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ও দল‑সমর্থিত রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর জন্য প্রায় ৪৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার অনুদান দিয়েছেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ধরলে, এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ৫,৪৩৯ কোটি টাকা।
ফোর্বসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অক্টোবরের প্রথম দুই সপ্তাহে মাস্কের সমর্থিত সংগঠন ‘আমেরিকা পিসি’কে ৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার অনুদান দেওয়া হয়। ৬ থেকে ১৪ অক্টোবরের মধ্যে সরাসরি দেওয়া অর্থের পরিমাণ ৭ কোটি ৪৮ লাখ ডলার, এবং তার মালিকানাধীন ‘ইউনাইটেড স্টেটস অব আমেরিকা ইনকরপোরেশন’ থেকে অতিরিক্ত প্রায় ১৯ লাখ ৮০ হাজার ডলার যোগ হয়েছে। এভাবে মোট অনুদান ৪৪ কোটি ৩০ লাখ ডলারে পৌঁছেছে।
অনুদানের লক্ষ্য ও ব্যবহার
মার্কিন নির্বাচন নথি অনুযায়ী, এই অর্থের প্রধান লক্ষ্য কংগ্রেসের দুই কক্ষ—প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা। বিশেষ করে টেক্সাসের সিনেট নির্বাচনে, আমেরিকা পিসি টেক্সাসে ডেমোক্র্যাট জেমস তালারিকোর বিরুদ্ধে প্রায় ২ কোটি ৭৯ লাখ ডলার ব্যয় করেছে, এবং রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটনকে সমর্থনে অতিরিক্ত ৪৮ লাখ ডলার প্রদান করেছে। ওহাইও, মিশিগান, আইওয়া ও মেইনের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের বিরোধে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করা হয়েছে।
অনুদান শুধুমাত্র বিজ্ঞাপন নয়; ভোটারদের কাছে প্রচার সামগ্রী পৌঁছানো, ঘরে ঘরে যোগাযোগ এবং ভোট দিতে উৎসাহিত করার কার্যক্রমেও ব্যয় করা হয়েছে। ফলে শেষ পর্যায়ে রিপাবলিকানদের মাঠপর্যায়ের প্রচার জোরদার করতে এই অর্থ বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
টেক্সাসের ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস তালারিকো ইলন মাস্কের এই আর্থিক সহায়তা নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন, তিনি বলেন ধনী ব্যক্তির বিশাল অর্থ ব্যয় ভোটারদের প্রভাবকে ক্ষুণ্ণ করতে পারে। ইলন মাস্কের এই অনুদান ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তুলনায় বেশি; ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে তিনি প্রায় ২৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার ব্যয় করেছিলেন।
মাস্কের ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে পূর্বের ঘনিষ্ঠতা এবং পরে দূরত্বের বিষয়েও বিতর্ক রয়েছে। যদিও তিনি প্রশাসন থেকে সরে গেছেন, তার কোম্পানি স্পেসএক্স এখনও সরকারি চুক্তিতে কাজ করছে, যা ডেমোক্র্যাটদের তদন্তের বিষয়।
৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়া এই মধ্যবর্তী নির্বাচন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণের পাশাপাশি অতি ধনীদের রাজনৈতিক প্রভাবের পরিধি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। (ইত্তেফাকের প্রতিবেদনে একই তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।)





