একাত্তর টিভি অনুসারে, জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি ও আয়ের তুলনায় নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার প্রতিবাদে ফ্রান্স জুড়ে তীব্র গণবিক্ষোভ ও লুটপাটের পর সরকার কিছু অঞ্চলে সান্ধ্য আইন (কারফিউ) জারি করেছে। প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, পুরো দেশে একযোগে জরুরি অবস্থা ঘোষণা না করেও নির্দিষ্ট এলাকায় আংশিক কারফিউ প্রয়োগ করা হবে এবং প্যারিসে সমগ্র কারফিউয়ের সম্ভাবনা তিনি খারিজ করেছেন।

লেকর্নু অতিবামপন্থী গোষ্ঠীর ইন্ধন এই সহিংসতার পেছনে রয়েছে বলে অভিযোগ করেন; তবে সাবেক অতিবামপন্থী প্রার্থী জঁ-লুক মেলঁশোঁ এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে প্রমাণের দাবি করেন এবং উসকানি না দেওয়ার আহ্বান জানান।

ফ্রেঞ্চ রিটেইল ফেডারেশন জানায়, প্রায় তিন হাজার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও দোকান ভাঙচুর ও লুটপাটের শিকার হয়েছে, যার মধ্যে ডিয়োর, রোলেক্স, লুই ভিটন, গুচি এবং অলিম্পিক মার্সেই ফুটবল ক্লাবের অফিসিয়াল আউটলেটও অন্তর্ভুক্ত। একাত্তর টিভি উল্লেখ করেছে যে শনিবারের সহিংসতায় হৃদরোগে আক্রান্ত এক আন্দোলনকারী মারা গেছেন, অন্তত ২,৪০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং প্রায় ১,০০০ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে।

প্রথম আলো প্রতিবেদনে একই ঘটনার পরিমাণে কিছু পার্থক্য দেখা যায়: তারা ২,৫০০ (আড়াই হাজার) গ্রেপ্তার এবং প্রায় ১,০০০ নিরাপত্তা কর্মী আহত হওয়ার তথ্য দেয়, পাশাপাশি একটি বিক্ষোভকারীর হাতে গ্রেনেডের ফলে আঙ্গুল বিচ্ছিন্ন হওয়ার উল্লেখ করেছে। ঢাকা টাইমসও ২,৩০০‑এর বেশি গ্রেপ্তার ও ১,০০০‑এর বেশি পুলিশ আহত হওয়ার তথ্য প্রকাশ করেছে। এই পার্থক্যগুলো উভয়ই সূত্রের ভিত্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

মেয়রদের মতে, প্যারিস, মার্সেই ও লিয়ঁ শহরে নিরাপত্তা ব্যর্থতার ফলে নাগরিকদের ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনিয়েজ পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁকে পত্র জমা দিলেও মাক্রোঁ তা প্রত্যাখ্যান করে, তবে তিনি দ্রুত ব্যারিকেড ও লুটপাট বন্ধ করার এবং গোয়েন্দা ব্যর্থতার স্বচ্ছ ব্যাখ্যা চেয়েছেন।

অর্থনৈতিক প্রভাবেও স্পষ্ট পরিবর্তন দেখা গেছে: একাত্তর টিভি জানায়, সোমবার ফরাসি শেয়ারবাজারে ১.৩ শতাংশ পতন ঘটেছে এবং সরকারি বন্ডের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। মাক্রোঁ বর্তমানে কুয়েতে অতিরিক্ত পেট্রোল ও ডিজেল সরবরাহের নিশ্চয়তা নিতে সফরে রয়েছেন, যা জ্বালানির দাম কমাতে লক্ষ্য।

উল্লেখযোগ্য যে, পিএসজি ও বার্সেলোনার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ম্যাচটি নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে, ইউরোপের কিছু দেশ তাদের নাগরিকদের ফ্রান্সে ভ্রমণ নিয়ে সতর্কতা প্রকাশ করেছে। ফরাসি শ্রমিক ইউনিয়নগুলো ৫ নভেম্বর থেকে নতুন ধর্মঘট ও গণবিক্ষোবে আহ্বান জানিয়েছে, যা বর্তমান সরকারের ওপর অতিরিক্ত চাপ বাড়াতে পারে।

এই তথ্যগুলো একাত্তর টিভি, প্রথম আলো, ঢাকা টাইমস এবং অন্যান্য স্থানীয় মিডিয়ার রিপোর্টের সমন্বয়ে প্রস্তুত করা হয়েছে।