ডয়চে ভেলে বাংলা অনুসারে, ইনানী পাটুয়ারটেক সৈকতে অবস্থিত ত্রি-তলা কাঠের রিসোর্টে শনিবার সকালে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের তথ্য অনুযায়ী, আগুনের প্রথম সংকেত সকাল ৭:২৩ (কিছু সূত্রে ৭:২৫) এ পাওয়া যায় এবং প্রায় ৮:১৫ টায় নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
ফায়ার সার্ভিসের বিবরণে রিসোর্টে কোনো অগ্নি নিরাপত্তা সরঞ্জাম, যেমন অগ্নি নির্বাপক, অ্যালার্ম বা হোজ পাইপ, না থাকায় এবং কোনো ফায়ার লাইসেন্স না থাকায়, চার মাস আগে রিসোর্ট কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিক সতর্কতা দেওয়া হয়েছিল। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ, ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক, উল্লেখ করেন যে রিসোর্টটি অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছিল।
মৃত্যু ও আহতের সংখ্যা
ডয়চে ভেলে বাংলা জানায়, আগুনে ১০জন পর্যটক প্রাণ হারিয়েছেন এবং আরও ছয়জন আহত হয়ে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান ডয়চে ভেলের কনটেন্ট পার্টনারদের জানান, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা মৃতদেহের সংখ্যা নিশ্চিত করেছে।
প্রোথম আলোর ইংরেজি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে মৃতদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মো. নাফিস তেহামি এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের লায়লা জাহান নাবিলা অন্তর্ভুক্ত। ধাক্কা ট্রিবিউনের তথ্য অনুযায়ী, মোট ১০জনের মধ্যে সাতজনের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে। ধাক্কা ত্রিবিউন আরও জানায়, মৃতদের মধ্যে একই পরিবারের ছয়জন (ফারিয়া কবির, তার স্বামী নুর আলম, পাঁচ বছর বয়সী ফয়জান নূর, নাসির উদ্দিন, ইসরাত জাহান মালিহা, লায়লা জাহান নাবিলা ও মিলিতা মেহেজাবিন) অন্তর্ভুক্ত।
ধাক্কা ত্রিবিউনের উখিয়া উপজেলা নীর্বাহী কর্মকর্তা পন্না আক্তার অনুসারে, আগুনের সময় রিসোর্টে মোট ১৮জন পর্যটক অবস্থান করছিলেন। আহতদের মধ্যে শিহাব উদ্দিন (মুগদা মেডিকেল কলেজের ডাক্তার) এবং তার স্ত্রী নাফিসা নেয়াজ খানসহ অন্যান্য চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
অনুমোদন ও পরিবেশগত ক্লিয়ারেন্সের অভাব
ধাক্কা ত্রিবিউনের তথ্য অনুযায়ী, রিসোর্টটি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের অনুমোদন ছাড়া নির্মিত হয়েছে এবং পরিবেশগত ক্লিয়ারেন্স পেয়েও না। কন্ডকর্ডে ক্যান্ডার মহম্মদ মোরশেদ হোসেন, কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর, উল্লেখ করেন যে জুন মাসে রিসোর্টকে অগ্নি নিরাপত্তা লঙ্ঘনের জন্য সতর্ক করা হয়েছিল, তবে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা জানান যে আগুন প্রায় ৭:৩০ টায় শুরু হয় এবং তীব্র সমুদ্রের বাতাসে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
উল্লেখ্য, ডয়চে ভেলে বাংলা মূল প্রতিবেদনে রিসোর্টের নাম উল্লেখ করা হয়নি, তবে প্রোথম আলো ও ধাক্কা ত্রিবিউনের রিপোর্টে রিসোর্টকে "তুপ্তুপ রিসোর্ট" বলা হয়েছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের তদন্ত চলমান রয়েছে এবং রিসোর্টের অনুমোদন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে।






