কক্সবাজারের ইনানীর পাটুয়ারটেক সৈকতে টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে আগুন লেগে ১০ জনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ইত্তেফাক অনুসারে, এই দেহগুলো কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গের হিমাগারে রাখা হয়েছে।

ময়নাতদন্তের আবেদন

অস্বাভাবিক মৃত্যুর ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী ময়নাতদন্ত বাধ্যতামূলক, তবে মৃতদেহের পরিবারগুলো ময়নাতদন্ত না করার আবেদন করেছে। ইত্তেফাকের তথ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাসনীম জাহানকে পাঁচটি দেহের জন্য আবেদন পেয়েছেন এবং আরও কিছু আবেদন কুরিয়ারের মাধ্যমে এসেছে। তবে দেহের পরিচয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ময়নাতদন্ত করা হবে না বলে জেলা প্রশাসন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

কক্সবাজারের সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিত্সক ডা. এস এম সোহেল জানান, রবিবার বিকালে দেহ থেকে ডিএনএ স্যাম্পল সংগ্রহ করে তদন্ত কর্মকর্তাকে প্রদান করা হয়েছে, কিন্তু ময়নাতদন্ত করা হয়নি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, পরিবারগুলো অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ময়নাতদন্ত না করার আবেদন করেছে।

আইনি দৃষ্টিকোণ

উখিয়া থানার ওসি আতিকুর রহমান মজুমদার বলেন, এটি সরাসরি হত্যা মামলা নয়; তাই ময়নাতদন্ত না হলে আইনি জটিলতা কম হবে। তিনি আরও জানান, অবহেলাজনিত মৃত্যুর ধারায় মামলাটি লিপিবদ্ধ হয়েছে, যার শাস্তি কমপক্ষে দশ বছরের কারাদণ্ড।

অন্যান্য সূত্রের তথ্য

আজকের পত্রিকা অনুসারে, আগুনের সময় রিসোর্টে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা এবং যশোরের পরিবারভুক্ত মোট দশজন, যার মধ্যে ছয়জনের স্বজন ঢাকা খিলগাঁওয়ের নন্দীপাড়া থেকে। রিসোর্টের সহকারী ব্যবস্থাপক জাহিদুল ইসলাম (সুমন) গ্রেফতার হয়ে সাত দিনের রিমান্ড চেয়েছেন। এছাড়া, রিসোর্টের মালিক তানভীর আহমদ এবং ব্যবসায়িক অংশীদার নিয়াজ মোর্শেদসহ মোট ২৩ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল পাওয়ার জন্য তিন থেকে চার সপ্তাহ সময় লাগবে বলে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান উল্লেখ করেছেন। ডিএনএ রিপোর্ট পাওয়ার পর দেহের পরিচয় নিশ্চিত করে স্বজনদের হস্তান্তর করা হবে।

ইত্তেফাকের তথ্য ও আজকের পত্রিকার প্রতিবেদন মিলিয়ে দেখা যায়, দেহের ময়নাতদন্তে অগ্রগতি ডিএনএ ফলাফলের ওপর নির্ভরশীল, এবং স্বজনদের আবেদন অনুযায়ী বর্তমানে ময়নাতদন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে।