দেশ রূপান্তর অনুসারে, চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজার এলাকায় ব্যবসায়ী মহিন উদ্দিন ২৭ আগস্ট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা যান; তবে সিভিল সার্জন কার্যালয় তার মৃত্যুর স্থানকে তার গ্রামের ঠিকানা সন্দ্বীপ হিসেবে রেকর্ড করেছে। একই রকম রেকর্ডিং পদ্ধতি অন্যান্য রোগীর ক্ষেত্রেও দেখা গেছে, যেখানে রোগীর স্থায়ী ঠিকানা ভিত্তিক তথ্য রেকর্ড করা হচ্ছে, যদিও রোগী শহরে মারা গেছেন।
চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান জানান, হাসপাতালের ডেথ সার্টিফিকেটে যে স্থায়ী ঠিকানা থাকে সেটি গ্রহণ করা হয় এবং রোগীর আক্রান্ত স্থান বিবেচনা করা হয় না। তিনি যোগ করেন, এডিশ মশার হটস্পট চিহ্নিত করে কর্ম পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, ফলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যক্রম থেমে নেই।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, রোগী যেখানে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন, সেই এলাকার তথ্যই গ্রহণ করা উচিত। একইভাবে, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মাহফুজুর রহমান ও চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. এএসএম লুৎফুল কবির শিমুলও রোগীর স্থায়ী ঠিকানা না দেখে, আক্রান্ত স্থানের তথ্যের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রোগী মো. রুবেল জানান, তিনি ইপিজেড এলাকায় কাজ করেন ও বাস করেন, তবে তার গ্রামের ঠিকানা কর্ণফুলীর নামে রেকর্ড করা হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. ইমাম হোসেন রানা জানান, মেয়র মহোদয়ও সিভিল সার্জন অফিসকে এই বিষয়ে অবহিত করেছেন এবং রোগীর মৃত্যুর স্থান দেখালে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ সহজ হবে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে চট্টগ্রাম জেলায় মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ৬,৩৪১, যার মধ্যে ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে ২,৪৩০ জন আক্রান্ত এবং ১৬ জন মারা গেছেন; অক্টোবরের প্রথম ২২ দিনে ১,৯১৫ জন নতুন আক্রান্ত এবং ১০ জন মারা গেছেন। চট্টগ্রাম মহানগরীতে ৩,০২৬ জন, উপজেলায় ২,৬৩৬ জন এবং অন্যান্য জেলার ৬৭৯ জন আক্রান্ত। উপজেলাগুলোর মধ্যে সীতাকুন্ডে ৭৯৮ রোগীর সর্বোচ্চ সংখ্যা রয়েছে।
অন্যান্য জেলার সিভিল সার্জন ডা. মো. সাইয়েদুর রহমান (বরিশাল) ও ডা. এস আই এম রাজিউল করিম (রাজশাহী) জানান, রোগীর স্থায়ী ঠিকানা বা জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যই রেকর্ডে ব্যবহার করা হয়। তবে চট্টগ্রামে ডেঙ্গু রোগীর তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক মাসে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে তথ্যের স্বচ্ছতা ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে বাধা সৃষ্টি করে।
এই সব বিবরণ দেশ রূপান্তর থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।






