অনুযায়ী বাংলা ট্রিবিউন, বিএনপি-নেতৃত্বাধীন সরকারের ৮ মাসে মন্ত্রিপরিষদের দুই সদস্য ও এক সংসদ সদস্যকে পদত্যাগ করতে হয়েছে। প্রথমে ১ জুন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান পদত্যাগ করেন, এরপর ১ অক্টোবর সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি এবং সর্বশেষ ১৯ অক্টোবর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন পদত্যাগ করেন।

বিশ্লেষকরা বলেছেন, এই পদত্যাগগুলো সরকারের নজরদারি ও জবাবদিহি শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে। বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ মন্তব্য করেন, "সরকারের প্রথম তিন মাসের মাথায় পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রীকে সরাতে হয়েছে" এবং ইশরাক হোসেনের মাদকবিরোধী অভিযানে পিস্তল তোলার ঘটনাকে "চরম বিব্রতকর" বলে উল্লেখ করেন।

পদত্যাগের পটভূমি ও পরিণতি

দীপেন দেওয়ান শারীরিক অসুস্থতার কারণ দিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন; তবে তার পদত্যাগের পেছনে রাঙামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নের জন্য সুপারিশের দ্বন্দ্বের কথাও উঠে এসেছে। ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুরের অভিযোগে সরকারের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন এবং পদত্যাগের পর তার আসন শূন্য ঘোষণা করা হয়, ২৯ অক্টোবর উপনির্বাচন নির্ধারিত। ইশরাক হোসেন ১৭ সেপ্টেম্বর গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে পিস্তল তোলার ছবি প্রকাশের পর ১৯ অক্টোবর পদত্যাগের ঘোষণা দেন এবং জাতীয় প্রেস ক্লাবে তা নিশ্চিত করেন।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক এবং অন্যান্য বিশ্লেষকরা সরকারের এই পদক্ষেপকে সতর্কবার্তা বা স্বস্তি হিসেবে বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছেন।

এই ঘটনাগুলো সরকারের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা, ঘুষ, দুর্নীতি ও দলীয়করণ ইত্যাদি বিষয়ের ওপর আলো ফেলেছে, তবে একক পদত্যাগে সমস্যার সমাধান হবে কিনা তা নিয়ে মতবিরোধ রয়ে গেছে।