প্রথম আলো ইংরেজি অনুসারে, লালমনিরহাটের আবদুল্লাহ আল মামুন রাশিয়ায় ভাল বেতনের কাজের আশায় গিয়েছিলেন, তবে প্রশিক্ষণের পর তিনি সামরিক ক্যাম্পে পাঠানো হয় এবং যুদ্ধক্ষেত্রে মারা যান। তার পরিবার এখনও শোকাহত, আর তার স্ত্রীর এক বছর বয়সী সন্তানকে কীভাবে লালন করবে তা অজানা।

৭ মে, মামুনসহ ২৯ জন বাংলাদেশি ঢাকা থেকে রাশিয়ায় গিয়েছিলেন। ২১ দিনের প্রশিক্ষণের পর তারা ১৬, ৮ এবং ৬ জনের দলে ভাগ হয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়। ১২-১৩ জুনের মধ্যে বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে; দুইজন আঘাত পেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে বাংলাদেশে ফিরে এসেছেন।

গত তিন বছরে অন্তত ৫৪ জন বাংলাদেশি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে মারা গেছেন বলে রিপোর্ট রয়েছে, যদিও রাশিয়া তাদের মৃত্যুর তথ্য প্রকাশ করে না এবং মৃতদেহ ফেরত দেয় না।

বাংলাদেশের রাশিয়া দূতাবাসের শ্রম বিভাগ ২৫ মে মন্ত্রণালয়ের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়ে জাবাল‑ই‑নূরসহ কিছু রিক্রুটিং এজেন্সির অনুমোদনহীন কর্মী প্রেরণকে নিন্দা করেছে। তদন্তে দেখা গেছে, এজেন্সিগুলি প্রয়োজনীয় অনুমোদন না পেয়ে টিএস ওভারসিজের নামে কর্মীদের পাঠিয়েছে।

বিশেষ প্রতিক্রিয়া ব্যাটালিয়ন (SRB) এবং গোয়েন্দা সংস্থার মতে, প্রেরিত বাংলাদেশি সৈন্যদের শারীরিক ও প্রশিক্ষণগত যোগ্যতা নেই; তারা মূলত শত্রুর অবস্থান চিহ্নিত করার জন্য বেইট হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

বাংলাদেশের রাশিয়া দূত মো. নাজরুল ইসলাম জানান, অধিকাংশ কর্মী স্বেচ্ছায়ই যুদ্ধক্ষেত্রে গিয়েছেন এবং রাশিয়ান কর্তৃপক্ষ তাদের স্বেচ্ছাসেবী হওয়ার লিখিত প্রমাণ দেখিয়েছে। তবে রাশিয়া এখনও মৃতদেহ ফেরত দিচ্ছে না।

মৃত্যু বা ছয় মাসের বেশি সময় অনুপস্থিত থাকলে ক্ষতিপূরণ পাওয়া যায়, তবে প্রমাণের অভাবে পরিবারগুলো এখনো কোনো সহায়তা পায়নি। শ্রমিক কল্যাণ বোর্ডেরও এখনো কোনো আবেদন পাওয়া যায়নি।

এই ঘটনায় জাবাল‑ই‑নূর ও আরএস ইন্টারন্যাশনাল সহ একাধিক রিক্রুটিং এজেন্সির প্রধানকে মানব পাচার নেটওয়ার্কের কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে গ্রেফতার করা হয়েছে।

প্রতিবেদনটি রাশিয়ায় কাজের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রেরিত শ্রমিকদের বাস্তব পরিস্থিতি ও সরকারের জবাবদিহিতা সম্পর্কে আলোকপাত করে।