চ্যানেল আই অনুসারে, সুইটি আক্তার এবং নজরুল ইসলামকে মক্কা অঞ্চলের একটি মসজিদে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে ১৪ অক্টোবর ২০২৬-এ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। সুইটির পরিবার, বিশেষ করে তার মা জহুরা বেগম, মৃত্যুদণ্ডের আগে তার সঙ্গে ফোনে কথা বললেও দণ্ডের বিষয়ে কোনো তথ্য শেয়ার করেননি। মা জহুরা বেগমের আবেগময় আবেদন অনুযায়ী, "সৌদি থাইকা আমার মাইয়ার লাশ আইনা দাও, আমি ওরে দেহুম" বলে তিনি দেহের প্রত্যাবর্তনের দাবি জানিয়েছেন।

সুইটির পটভূমি

সুইটি আক্তার টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার মহেরা ইউনিয়নের নগর ছাওয়ালী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন; তিনি ফজল মিয়া ও জহুরা বেগমের পাঁচ কন্যার মধ্যে সবচেয়ে ছোট। অষ্টম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় তার বিয়ে হয় এবং প্রথম স্বামীর মৃত্যুর পর একমাত্র মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতে ফিরে আসেন। ২০২৩ সালের মার্চে তিনি একটি এজেন্সির মাধ্যমে সৌদি আরবে গিয়ে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন। প্রায় ছয় মাসের কাজের পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়; গ্রেপ্তার সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, তার সঙ্গে কাজ করা কয়েকজন নারী অবৈধভাবে গাড়ি কেনার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়।

সুইটির পরিবার জানান যে, কারাগারে থাকা সময়ে মাঝে মাঝে তার সঙ্গে যোগাযোগ থাকত, তবে শেষবারের মতো ১৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় ফোনে কথা হয়। মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে কোনো তথ্য শেয়ার না করা সত্ত্বেও, পরিবার তার দেহের দেশে ফেরত চাচ্ছে।

শহীদ কর্মীর দেহের প্রত্যাবর্তন

ঢাকা ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, মি. শাহেদ আহমেদ, যিনি রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথি আক্রমণে নিহত হয়েছেন, তার দেহ বাংলাদেশে পৌঁছানোর প্রস্তুতি চলছে। বাংলাদেশ রিয়াদ দূতাবাসের বিবৃতি অনুযায়ী, দেহটি শুক্রবার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবে; উড্ডয়নটি ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের BS-362 ফ্লাইট, যা জেদ্দার কিং আবদুলআজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রিয়াদ সময় রাত ১১:১০ টায় রওনা হবে এবং ঢাকা সময় সকাল ৮:৩৫ টায় অবতরণ করবে।

শাহেদ আহমেদের পরিবার, শাজাহানপুর, বগুড়ার মাদলা গ্রাম থেকে, জানিয়েছে যে তিনি ৩৬ বছর বয়সী এবং সৌদি আরবের সা'আদ আল ঈসা কন্ট্র্যাক্টিং কোম্পানির জেদ্দা প্রকল্পে কাজ করতেন। তিনি ৯ অক্টোবরের আগে এক মাসের ছুটি শেষে আবার কাজের জন্য সৌদি আরবে ফিরে যান এবং আক্রমণের সময় ট্রানজিটের অপেক্ষায় ছিলেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দুইজন বাংলাদেশি কর্মী নিহত হয়েছে এবং কমপক্ষে ২৭ জন আহত হয়েছে। এছাড়া, শাহেদের বকেয়া বেতন ও ভাতা মোট ২৭,৩৯৫.৬২ সৌদি রিয়াল (প্রায় টাকায় ৯,০০,০০০) বাংলাদেশ রিয়াদ দূতাবাসের অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে, যা শীঘ্রই ওয়েজারস ওয়েলফেয়ার বোর্ডের মাধ্যমে পরিবারকে প্রদান করা হবে।

উল্লেখ্য, সুইটি আক্তারের পরিবার দাবি করে যে তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন, তবে এই দাবির কোনো স্বাধীন যাচাইয়ের তথ্য পাওয়া যায়নি।