ফ্রিডম হাউসের ‘ফ্রিডম অন দ্য নেট ২০২৬’ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১ জুন ২০২৫ থেকে ৩১ মে ২০২৬ পর্যন্ত পর্যবেক্ষণকালে বাংলাদেশে ইন্টারনেট নাগরিক স্বাধীনতার স্কোর ১০০‑এর মধ্যে ৫০ পেয়েছে। পূর্বের দুই বছর এই স্কোর যথাক্রমে ৪০ ও ৪৫ ছিল, ফলে টানা দুই বছর ধারাবাহিক উন্নতি দেখা গেছে। স্কোরের ৫‑পয়েন্ট বৃদ্ধি মধ্যে ৪ পয়েন্ট ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ বৃদ্ধির ফলে এবং ১ পয়েন্ট অনলাইন কন্টেন্টের ওপর বিধিনিষেধ কমার ফলে অর্জিত হয়েছে।

গ্লোবাল প্রেক্ষাপট

ফ্রিডম হাউস ৩৮টি দেশের ইন্টারনেট স্বাধীনতা পর্যালোচনা করেছে। বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেট স্বাধীনতা ১৬তম বছর ধারাবাহিকভাবে হ্রাস পেয়েছে, তবে ২০১৬ সালের পর বাংলাদেশে কোনো পূর্ণ ইন্টারনেট শাটডাউন ঘটেনি। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জুলাই ২০২৪-এ গণ-অভ্যুত্থান ও তার পরবর্তী সংস্কার উদ্যোগই দেশের ইন্টারনেট স্বাধীনতার উন্নতির প্রধান কারণ।

গণমাধ্যমের পরিস্থিতি

প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারসহ প্রধান সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের উপর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত ২৮০‑এর বেশি মামলা দায়ের হয়েছে। অধিকাংশ মামলা ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান সংক্রান্ত প্রতিবেদন নিয়ে, যাকে আওয়ামী লীগের প্রতি অতিরিক্ত সহানুভূতিশীল বলে বিবেচনা করা হয়। এছাড়া, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার কার্যালয়ে সামাজিক মিডিয়ায় 'ভারতপন্থী' লেবেল দিয়ে হামলা ও অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে, যেখানে কর্মরত সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ে। ফ্রিডম হাউস এই ঘটনাগুলোকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিক নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক হিসেবে উল্লেখ করেছে।

প্রতিবেদনটি উল্লেখ করেছে যে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিরোধী দলের সমাবেশ ও ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতা আন্দোলনের সময় প্রায়ই ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করা হতো, যা দেশের ইন্টারনেট স্বাধীনতার পরিসর সংকুচিত করেছিল। তবে, অন্তর্বর্তী সরকারও কখনো কখনো একই ধরনের দমনমূলক কৌশল ব্যবহার করেছে।

ফ্রিডম হাউসের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, নতুন সরকারের জন্য ইন্টারনেট স্বাধীনতার অগ্রগতি বজায় রাখা এবং টেকসই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা বড় চ্যালেঞ্জ। প্রতিবেদনে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা উল্লেখ করা হয়েছে।

উপরের সব তথ্য প্রথম আলো সূত্রে পাওয়া গেছে।