বাংলাদেশ সরকার সৌদি আরবের পবিত্র মক্কায় দুজন বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ বিন জাফর এইচ বিন আবιάকে ডেকে পরিস্থিতির ব্যাখ্যা জানতে চাইছে। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (দ্বিপক্ষীয় বিষয়াবলী) মো. নজরুল ইসলাম রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে এই বিষয়ে আলোচনা করেছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা বিকেলে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ইনডিপেনডেন্ট টিভির খবর অনুযায়ী, রোববার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, "এটি কোনো তলব নয়, রাষ্ট্রদূতকে ডেকে এ ঘটনার বিষয়টি জানতে চাওয়া হয়েছে।" তিনি জানান, এর আগে শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল যে সৌদি আরব মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে পরিবার বা দূতাবাসকে কোনোভাবে অবহিত করেনি।

ঢাকা টাইমসের প্রতিবেদনে সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) এর বিবৃতি উদ্দৃতি করে বলা হয়েছে, মক্কার একটি মসজিদে 'অনৈতিক কাজ' করার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত নাজেরুল ইসলাম আব্দুল বশির ও সিতি আক্তার নামের দুজন বাংলাদেশিকে গত বুধবার শিরচ্ছেদের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসলামি আইনের 'তাজির' ধারার অধীনে বিচারকের বিবেচনাধীন শাস্তি দেওয়া হয়েছে এবং রাজকীয় আদেশের মাধ্যমে সাজা কার্যকর করা হয়েছে।

ঢাকা টাইমস আরও জানিয়েছে, এই ঘটনায় ভিয়েনা কনভেনশনের ৩৭(ক) ও ৩৬(১)(খ) অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন হয়েছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কনভেনশন অনুযায়ী কোনো দেশের নাগরিক আটক বা মৃত্যুদণ্ড পেলে সংশ্লিষ্ট কনস্যুলেটকে অবিলম্বে জানাতে হয়। বাংলাদেশ কনস্যুলেট জানিয়েছে, তাদের এই ঘটনার কোনো পূর্ব सूচনা ছিল না।

জেদ্দায় বাংলাদেশ দূতাবাসের সূত্রে ইনডিপেনডেন্ট টিভি জানিয়েছে, দুজনের আটক, বিচার ও শাস্তি কার্যকরের বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ দূতাবাসকে কোনো তথ্য দেনি। মৃত্যুদণ্ড পাওয়া দুজন কি আইনি সহায়তা পেয়েছিলেন বা তাদের পরিবারকে জানানো হয়েছিল কিনা, সেটাও এখনো অস্পষ্ট।

বিভিন্ন মাধ্যমে এগিয়ে আসা তথ্যে কিছু পার্থক্য রয়েছে। প্রথম আলো ও বর্তা২৪ ঘটনাকে 'রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পরিস্থিতি জানতে চাওয়া' বলে বর্ণনা করেছে, ঢাকা টাইমস 'তলব' শব্দ ব্যবহার করেছে, আর ইনডিপেনডেন্ট টিভি প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য দিয়ে বলেছে এটি তলব নয়। সরকারি পক্ষ এখনো কোনো офиসিয়াল বিবৃতি দেনি।