বাংলা ট্রিবিউনের তথ্য অনুযায়ী, পুরান ঢাকায় ১৮ দলীয় অবরোধ কর্মসূচির সময় ৯ ডিসেম্বর ২০১২-এ দর্জি বিশ্বজিৎ দাসকে কুঁচিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এই ঘটনার পর ৫ মার্চ ২০১৩-এ ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ২১ জন ছাত্রলীগ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দায়ের করে।

প্রাথমিক বিচারক হিসেবে ঢাকা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক এবিএম নিজামুল হক ৮ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১৩ জনকে আজীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন। মৃত্যুদণ্ডের রেফারেন্স হাইকোর্টে গিয়ে, ৬ আগস্ট ২০১৭-এ হাইকোর্ট রায়ে রফিকুল ইসলাম শাকিল ও রাজন তালুকদারের মৃত্যুদণ্ড বজায় রাখে, অন্য দুইজনের (সাইফুল ইসলাম ও কাইয়ুম মিঞা টিপু) মৃত্যুদণ্ড বাতিল করে। এছাড়া, কিছু আসামির মৃত্যুদণ্ডকে আজীবন কারাদণ্ডে রূপান্তরিত করা হয় এবং দুইজন (ইএইচএম কিবরিয়া ও গোলাম মোস্তফা) আজীবন কারাদণ্ড থেকে মুক্তি পান।

বাকি ১১ জনের আজীবন কারাদণ্ড রায়ের বিরুদ্ধে কোনো আপিল না করা হওয়ায়, তাদের শাস্তি বজায় থাকে। এই ১১ জনের নামগুলো হল: খন্দকার ইউনুস আলী, তারেক বিন জোহর, আলাউদ্দিন, ওবায়দুল কাদের, ইমরান হোসেন, আজিজুর রহমান, আল আমিন শেখ, রফিকুল ইসলাম, মনিরুল হক পাভেল, কামরুল হাসান ও মোশাররফ হোসেন।

আদালতের আপিল শুনানি নির্ধারণ

রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন পরিপ্রেক্ষিতে, চেম্বার বিচারপতি রেজাউল হক ১৯ অক্টোবর (সোমবার) আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে ৮ ডিসেম্বর শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেন। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের প্রতিনিধিত্ব করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।

সমকালের রিপোর্টে একই তারিখের শুনানি উল্লেখ করা হয়েছে এবং অ্যাটর্নি জেনারেলকে নিশ্চিতকরণকারী হিসেবে উল্লেখ করেছে। তবে সমকালের প্রতিবেদনে হত্যার তারিখকে ১৮ ডিসেম্বর ২০১৩ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা বাংলা ট্রিবিউনের ৯ ডিসেম্বর ২০১২ তারিখের সঙ্গে ভিন্ন। ইত্তেফাকের প্রতিবেদনে হাইকোর্টের রায়ে আটজনের মৃত্যুদণ্ড রক্ষা করা হয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে, যা বাংলা ট্রিবিউনের দুইজনের রায়ের সঙ্গে পার্থক্য দেখায়। চ্যানেল ২৪ ও বার্তা২৪ কেবল শুনানির তারিখ ৮ ডিসেম্বর পুনরায় উল্লেখ করেছে।

উপরোক্ত তথ্যগুলো বাংলা ট্রিবিউনের সূত্রে ভিত্তিক; অন্যান্য মিডিয়ার উল্লেখিত ভিন্ন তথ্যগুলো আলাদা সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।