জাপানের রাজধানী টোকিওতে আয়োজিত এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) কংগ্রেসে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পুনর্নির্বাচনের পক্ষে নিঃশর্ত সমর্থন ঘোষণা করা হয়েছে। এএফসির সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল-খলিফা আজ কংগ্রেসে ইনফান্তিনোর উপস্থিতিতে এই সমর্থনের কথা জানান বলে প্রথম আলো ও আজকের পত্রিকা প্রতিবেদন করেছেন।

এএফসির অবস্থান পরিবর্তন

দুই মাস আগে ইউরোপের ইউএফএ এবং উত্তর-মধ্য আমেরিকার কনকাক্যাফের সঙ্গে মিলে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া এএফসি আজ পুরো পক্ষ থেকে তাঁর পক্ষে দাঁড়িয়েছে। আগস্টে ফিফার শীর্ষ প্রতিযোগিতাগুলোর আয়োজন অধিকার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা নিয়ে এএফসি তীব্র সমালোচনা করেছিল। পরে ইনফান্তিনো সেই পরিকল্পনা বাতিল করে ফিফার নির্বাহী পরিষদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

শেখ সালমানের বক্তব্য

শেখ সালমান বলেন, "ফিফা সভাপতি হিসেবে আপনি নতুন মেয়াদে দায়িত্ব পালনের জন্য চেষ্টা করছেন, তখন আপনার ও আপনার নেতৃত্বের প্রতি পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার অঙ্গীকার করছি আমরা।" তিনি অতীতের মতপার্থক্য স্বীকার করলেও বলেন, "দুটি বিষয়কে এক করে মেলানো ঠিক হবে না। আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে।" তবে এএফসির ৪৭ সদস্যের সবাই ইনফান্তিনোকে সমর্থন করবেন কি না সেটি নিশ্চিতভাবে বলেননি শেখ সালমান।

বাংলাদেশের অবস্থান

ইত্তেফাকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কংগ্রেসে বাংলাদেশ থেকে বাফুফের সভাপতি তাবিথ আউয়াল এবং সহসভাপতি নাসের শাহরিয়ার জাহেদী উপস্থিত রয়েছেন। তারা এএফসি সভাপতি শেখ সালমানের সঙ্গে বৈঠক করছেন যাতে বাংলাদেশের অবস্থান শক্ত হয়। বাংলাদেশের ফুটবল কর্তারা নিজ উদ্যোগে ইনফান্তিনোর সঙ্গে আলাদা দেখা করার অপেক্ষায় আছেন, তবে ইনফান্তিনো সময় দেবেন কিনা তা অনিশ্চিত। গতকাল শেখ সালমানের সঙ্গে আলাদা বৈঠক হয়েছে কিনা সেটি নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে—একপক্ষ গুঞ্জন করছে বৈঠক হয়েছে, অন্যপক্ষ বলছে ইনফান্তিনোর সঙ্গে সালমানের কথা হয়নি।

ভোটের গণিত ও নির্বাচন সময়সূচি

ফিফার মোট ২১১টি সদস্য দেশ রয়েছে। ইনফান্তিনোর পক্ষে ৮৭ ভোট নিশ্চিত বলে জানা গেছে, যার অধিকাংশ আফ্রিকান অঞ্চল থেকে। এশিয়ার ৪৭ ভোট যদি পাওয়া যায় তবে জয়পথ সহজ হবে। আগামী ১৮ নভেম্বর প্রার্থিতা জমা দেওয়ার শেষ তারিখ এবং ২০২৬ সালের মার্চে কাতারের দোহায় ফিফা কংগ্রেসে নির্বাচন হবে। এখন পর্যন্ত ইনফান্তিনোর বিপক্ষে কেউ প্রার্থিতা ঘোষণা করেননি।