সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের তিনটি ডেগ ও পাঁচটি দানবাক্স খুলে প্রকাশ্যে টাকা গণনা করা হয়। এই পঞ্চম দফার গণনায় ৮৮ লাখ ৬৫ হাজার ৮০৪ টাকা পাওয়া যায়। এছাড়া মিলেছে স্বর্ণ, রৌপ্য ও ১৮ ধরনের বৈদেশিক মুদ্রা।
গণনা শুরু হয় শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে নয়টায় এবং শেষ হয় সন্ধ্যা ছয়টায়, জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুনের উপস্থিতিতে। গণনার পর জেলা প্রশাসক মানুষের উদ্দেশে অর্থের পরিমাণ ঘোষণা করেন।
এর আগে চতুর্থ দফার গণনায় ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৬ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। তারও আগে তৃতীয় দফায় প্রায় পৌনে এক কোটি টাকা পাওয়া গিয়েছিল। এর আগে ১১ জুলাই দ্বিতীয় দফায় প্রায় অর্ধকোটি টাকা পাওয়া যায়।
এসব অর্থ ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হবে। কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দানের টাকার ৩৫ শতাংশ মাজারের উন্নয়নে ব্যয় হবে এবং বাকি ৬৫ শতাংশ দৈনন্দিন খরচ ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দেওয়া হবে।
এ ঘটনার সূত্রপাত ১২ জুন মাজার পরিদর্শনে যান তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। তিনি মাজারের আয়-ব্যয়ের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান। এর অংশ হিসেবে ১৮ জুন বিকেলে পুরোনো দানবাক্স সিলগালা করে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয় এবং ঐতিহাসিক তিনটি ডেগও সিলগালা করা হয়।
বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হয়েছিল। কেউ ইতিবাচকভাবে দেখেন, আবার অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সারওয়ার আলমকে জেলা প্রশাসকের পদ থেকে প্রত্যাহার করে নেয় সরকার।
২৬ জুন সিলেট সার্কিট হাউসে স্থানীয় সংসদ সদস্য খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের উদ্যোগে একটি সভা হয়। সেখানে ১৩ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।
গণনায় পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রার মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশি টাকা, ব্রিটিশ ১৪ পাউন্ড, ভারতীয় ৭ হাজার ৬৪৭ রুপি, থাইল্যান্ডের ২০ বাথ, সৌদি আরবের ৯৩ রিয়াল, মালয়েশিয়ার ১১ রিঙ্গিত, ২৯ মার্কিন ডলার, কাতারের ১৭ রিয়াল, ৭ দশমিক ৩৩ ইউরো, হংকংয়ের ১০ ডলারসহ বিভিন্ন দেশের মুদ্রা।
একসঙ্গে ৩৫ দিনের গরু ও ছাগলের হিসাবও উপস্থাপন করা হয়। হিসাব অনুযায়ী, ৭টি গরুর মধ্যে ৪টি লঙ্গরখানায় শিরনি হিসেবে রান্না হয়েছে এবং তিনটি গরু খাদিমরা পেয়েছেন; ৩১০টি ছাগলের মধ্যে ২৫টি জবাই করে বিতরণ করা হয়েছে, ২১০টি লঙ্গরখানায় শিরনি হিসেবে রান্না করা হয়েছে, ২৭টি ব্যক্তিগত উদ্যোগে শিরনি করা হয়েছে এবং ৪৮টি খাদিমরা পেয়েছেন।
আজকের পত্রিকার তথ্য অনুযায়ী, পাওয়া স্বর্ণালংকার ১ ভরি সাড়ে ৮ আনা এবং রূপা ৩ ভরি ১৩ আনা।
Source: চ্যানেল ২৪






