প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৪ অক্টোবর রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ৪৫তম বিসিএসের চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করে। পিএসসির সুপারিশ করা ১ হাজার ৮০৭ প্রার্থীর মধ্যে ১ হাজার ৭০২ জনের চাকরি নিশ্চিত হলেও ১০৫ জন বাদ পড়েছেন। বাদ পড়া প্রার্থীদের মধ্যে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার শামীম আল মাহাদী রয়েছেন। তাঁর মা আলেয়া বেগম দাবি করেছেন যে তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা বা রাষ্ট্রবিরোধী অভিযোগ নেই।

গেজেটে নাম না পাওয়া প্রার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে অবস্থান কর্মসূচি চালু করেছেন এবং শাহবাগে ‘আত্মাহুতি’র হুমকি দিয়েছেন। তারা পাঁচ দফা দাবি তুলেছেন, যার মধ্যে পুনঃপ্রজ্ঞাপনের তারিখ ঘোষণা, সম্পূরক গেজেট প্রকাশ, বাদ পড়ার কারণ লিখিতভাবে জানানো, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ এবং প্রশাসনিক যাচাইয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অন্তর্ভুক্ত।

বিশেষজ্ঞ রেজওয়ানা করিম স্নিগ্ধা এই প্রক্রিয়াকে ‘রাষ্ট্রীয় কাঠামোগত দুর্নীতি’ এবং ‘রাষ্ট্রীয় অনাচার’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি মন্তব্য করেছেন যে ফৌজদারি অভিযোগ বা আদালती দণ্ড ছাড়া রাজনৈতিক বা অন্য অজুহাতে বঞ্চিত করা গ্রহণযোগ্য নয়।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী প্রথম আলোকে বলেছেন, বাদ পড়া প্রার্থীদের অধিকাংশের কাগজপত্রে ঘাটতি থাকায় সাময়িকভাবে নাম বাদ পড়েছে। বাকিদের বিষয়ে রি-ভেরিফিকেশন (পুনর্নিরীক্ষা) উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং আইনি কাঠামোর মধ্যে যোগ্য প্রার্থীরা চাকরি পাবেন। তিনি ৪৯তম বিসিএসের উদাহরণ দিয়ে বলেছেন যে চূড়ান্ত গেজেটের পরেও রি-ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে প্রার্থীরা নিয়োগ পেয়েছেন।